ইফতেখার আলম বিশাল : রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশাল পুকুরটি অবহেলা ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুকুরের বর্তমান পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কলেজ হোস্টেলের শিক্ষার্থী ও আশপাশের এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দৈনন্দিন ব্যবহারের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। অনেকে নিয়মিত সেখানে গোসল করতেন। এছাড়াও পুকুরে মাছ চাষ করা হতো এবং মাছ বিক্রির অর্থ কলেজ মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হতো।
তবে বর্তমানে পুকুরটি কচুরিপানায় ভরে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এর ফলে কচুরিপানা পচে যাওয়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মাছও মারা যায়। মৃত মাছ ও পচা পানার দুর্গন্ধে পুরো এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে পাশের কাজী নজরুল ইসলাম ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে হোস্টেলের ভেতরেও তা ছড়িয়ে পড়ছে। একইসঙ্গে পচা পানিতে কিউলেক্স (Culex) মশা ও ডেঙ্গুর ব্যাপক বংশবিস্তার ঘটছে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী বলেন, এটি দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা নয়,সাময়িক সমস্যা। ঈদের ছুটির মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া কলেজের বাইরের কিছু পরিবার কোরবানির বর্জ্য পুকুরে ফেলেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা কোনো কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। এছাড়া পুকুরের পচা পানি থেকে ডেঙ্গু ছড়ালে সেটি সিটি কর্পোরেশনের দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর মো. আতাউর রহমান বলেন,পুকুরের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। পুকুরে মাছও আছে। কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করা হচ্ছে। তবে কিছু মাছ মারা গেছে।
তবে অধ্যক্ষ ও মসজিদ কমিটির আহ্বায়কের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ যেখানে দাবি করেছেন ঈদের সময় পুকুরের এ অবস্থা হয়েছে, সেখানে মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক জানিয়েছেন ঈদের আগ থেকেই সংস্কার কার্যক্রম চলছিল।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। মাছ ও কচুরিপানা পচে যাওয়ার ফলে এক ধরনের তীব্র দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, পুকুর সংস্কারের নামে বিষ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত।এটি শুধু মাছ হত্যার ঘটনা নয়,বরং পুরো জলজ বাস্তুতন্ত্র ও নগরের পরিবেশের ওপর আঘাত।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নগরের আর কোনো পুকুর নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। আমরা আশা করি প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। একটি পুকুর রক্ষা করা মানে শুধু পানি সংরক্ষণ নয় বরং একটি জীবন্ত পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা।