শিরোনাম
◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে! ◈ দে‌শের বিপর্যস্ত জনগণ ফে‌লে রাজনী‌তি থে‌কে বিশ্রা‌মে যা‌বো না: 'এই সময়' অনলাইনে শেখ হা‌সিনার সাক্ষাৎকার ◈ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক: আস্থার সংকট কতটা গভীর? ◈ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা ইরানের, টোল নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত ◈ এবা‌রের বিশ্বকা‌পে আ‌র্জেন্টিনা মেসিনির্ভর দল নয়: কোচ ◈ ‘৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি’, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবির জবাবে বিজিবি ◈ প্রস্তু‌তি ম‌্যা‌চে ওলিসের হ্যাটট্রিক, আয়ারল‌্যান্ড‌কে ৩-১ গো‌লে হারা‌লো ফ্রান্স ◈ শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তন: বাংলা-ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বাদ, যুক্ত হচ্ছে এআই, বিদেশি ভাষা, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষা ◈ বিশ্বকাপে রোনালদো না মেসি, কে করবেন বেশি গোল? ভবিষ্যদ্বাণী এমবাপের ◈ ‌ফিফার ঘোষণা, বিশ্বকাপে চোটের অভিনয় করলেই শাস্তি

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০৭:১২ বিকাল
আপডেট : ০২ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জীবননগরে তরুণ উদ্যোক্তার আঙ্গুর বিপ্লব, ৩ বিঘা থেকে এখন ২০ বিঘার ফল বাগান

জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের আঙ্গুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনার গল্প। ২০২৪ সালে মাত্র ৩ বিঘা জমিতে আঙ্গুর চাষ দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তার বাগান বিস্তৃত হয়েছে ২০ বিঘায়, যার মধ্যে ৭ বিঘা জুড়ে রয়েছে আঙ্গুরের চাষ।

উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের হাসাদহ তালপুকুর মাঠে গড়ে ওঠা এই বাগানে প্রতিদিনই চলছে আঙ্গুর সংগ্রহ। প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ক্যারেট আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান উদ্যোক্তা লাল। জেলার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে আঙ্গুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

লাল জানান, তার এই বাগানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক দৈনিক চুক্তিতে এবং আরও ১৫ জন মাসিক চুক্তিতে কাজ করছেন। ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা পাইকার শরীফ বলেন, “অনলাইনে বাগানটি দেখে এখানে এসেছি। দেশের বাইরে থেকে যে আঙ্গুর আসে, এর মানও প্রায় একই রকম। তাই এখান থেকে কিনে নিয়ে গিয়ে আমার পার্টিদের কাছে বিক্রি করব।”

 কার্পাস ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আঙ্গুর চাষের পরিকল্পনা করছিলাম। আজ লাল ভাইয়ের বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। ১,৫০০টি চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছি, নিজের বাগান গড়ার জন্য।”

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও বাগানটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্কুলছাত্র আব্দুর রহিম বলে, “আমাদের বাড়ি পাশের গ্রামে। মাঝে মাঝেই আমরা বাগানে আসি। এখানে এসে আঙ্গুর খেতেও পাই, খুব ভালো লাগে।”

খয়েরহুদা গ্রামের গৃহবধূ সপ্না তার ছোট মেয়ে লাবনীকে নিয়ে বাগান দেখতে এসে বলেন, “অনলাইনে দেখে আজ সরাসরি এলাম। বাগান খুব সুন্দর। গাছ থেকে আঙ্গুর খেয়েছি, যাওয়ার সময় কিছু কিনেও নিয়ে যাব।”

তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম লালের এই সফলতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আধুনিক পদ্ধতিতে ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার এ উদ্যোগ এলাকাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়