শিরোনাম
◈ ইরানে ইসরাইলের পালটা হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা ◈ ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল ফিলিপাইন, সুনামির ঝুঁকিতে উপকূলীয় এলাকা ◈ পুশইন ঠেকাতে রাত জেগে সীমান্ত পাহারায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশি ◈ ইরানের বিরুদ্ধে পালটা অভিযানে না যেতে নেতানিয়াহুকে অনুরোধ করবেন ট্রাম্প ◈ মালদ্বীপের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের ◈ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত ◈ এবার লেবাননে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর বার্তা ট্রাম্পের ◈ বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের বেড়া নির্মাণে মেঘালয়ের আপত্তি, গ্রামবাসীর প্রতিবাদ ◈ পুরোপুরি সুস্থ নন ইলিয়াস কাঞ্চন: কথা বলছেন, তবে জড়তা কাটেনি, স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন তথ্য ◈ এমপিদের সরাসরি তহবিল বরাদ্দ বাতিল, প্রকল্প অনুমোদন দেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশিত : ০৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪৪ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর জন্য ‘খাদ্য বাগান’ তৈরি করছে বন বিভাগ

শেরপুরের গারো পাহাড়ে মানুষের বিচরণ যত বাড়ছে, কমছে ঘন বনজঙ্গল। যে বন ছিল হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণীর বাসস্থান ও বিচরণক্ষেত্র, তা পরিণত হচ্ছে হয় চাষের ক্ষেতে নয়তো লোকালয়সহ অন্য কিছুতে। এর ফলে গারো পাহাড়ে বন্যহাতির জীবনও সংকটে পড়েছে। প্রায় প্রতি বছরই খাবারের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পালের সঙ্গে দ্বন্দ্বে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষও। এ কারণে পাহাড়ে হাতিসহ বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংকট কমাতে পাহাড়ি টিলাজুড়ে ভিন্নধর্মী ‘খাদ্য বাগান’ গড়ে তুলছে বন বিভাগ। এ উদ্যোগের ফলে একদিকে বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও আবাসস্থল তৈরি হবে। অন্যদিকে হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনেও এই ‘খাদ্য বাগান’ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস বন বিভাগ ও স্থানীয়দের। 

গারো পাহাড়ের সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে প্রায়ই চলে বন্যহাতির তাণ্ডব। বোরো ও আমন মৌসুমের ধান ছাড়াও কাঁঠাল ও অন্যান্য ফল, সামাজিক বন এমনকি সবজি ক্ষেত খেয়ে সাবাড় করে হাতি; ধ্বংস করে ঘরবাড়ি। বন্যহাতির এ তাণ্ডব থেকে বাঁচতে মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গেলে বাধে দ্বন্দ্ব। 

বন বিভাগ সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতায় শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও সংলগ্ন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে মোট তিনটি রেঞ্জ। সম্প্রতি এই তিনটি রেঞ্জে ২৬০ হেক্টর পাহাড়ি বনভূমিতে বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্য উপযোগী প্রায় ৬০ প্রজাতির বনজ ও ফলদ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে; যাকে বলা হচ্ছে ‘খাদ্য বাগান’। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বালিঝুড়ি রেঞ্জের আওতায় বকশীগঞ্জের ডুমুরতলায় ১০২ দশমিক ৫ হেক্টর, শ্রীবরদী উপজেলার রাজাপাহাড়ে সাড়ে ১২ হেক্টর, খ্রিষ্টানপাড়ায় ৫ হেক্টর ও মালাকুচায় ১৫ হেক্টর, ঝিনাইগাতী উপজেলার বালিজুড়ি রেঞ্জের আওতায় তাওয়াকুচায় ২০ হেক্টর, গজনীতে ২০ হেক্টর ও রাংটিয়ায় ৩০ হেক্টর এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতায় বাতকুচি বিট এলাকায় ৩৫ হেক্টর ও গোপালপুর বিটের পানিহাটায় ২০ হেক্টর জমিতে এসব বাগান গড়ে তোলা হয়। রোপিত গাছের মধ্যে রয়েছে– চাপালিশ, বট, পাকুড়, জলপাই, কামরাঙা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, কাঁঠাল, বরই, করমচা, কলা, বেল, চালতা, আতাফল, বহেড়া, আমলকী, হরীতকী, বাঁশসহ আরও নানা প্রজাতি। 

বন বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগের কারণে এরই মধ্যে পাহাড়ে প্রাণ-প্রকৃতি ফিরতে শুরু করেছে। তবে বন্যহাতির জন্য ২৬০ হেক্টর ‘খাদ্য বাগান’ যথেষ্ট নয় বলে দাবি পরিবেশবাদী সংগঠনের। অপরদিকে, ‘খাদ্য বাগান’ তৈরির বরাদ্দ প্রকাশ না করায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে আর্থিক অনিয়ম হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নও ছুড়েছেন অনেকে।
স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ খাদ্য ও আবাসস্থল তৈরি হবে। অন্যদিকে বন্যহাতির খাদ্যের জোগান বৃদ্ধি হওয়ায় মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্ব অনেকটাই কমে আসবে। তবে শতাধিক বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র ও খাবারের জন্য এতটুকু ‘খাদ্য বাগান’ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। বন্যহাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে তারা আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। 

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্য ন্যাচার’ শেরপুর জেলা শাখার সহসভাপতি রবিউল ইসলাম মণ্ডল বলেন, গারো পাহাড়ে ‘খাদ্য বাগান’ গড়ে তোলায় তা বন্যপ্রাণীর জন্য ভালো হবে। তবে পাহাড়ি বনে থাকা শতাধিক হাতির জন্য এ বাগান যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া বন বিভাগ ‘খাদ্য বাগান’সহ তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ জনসমক্ষে প্রকাশ করছে না। অথচ সরকারের যে কোনো কাজের বরাদ্দের পরিমাণ জানা নাগরিকের অধিকার। তাই এ প্রকল্পের বরাদ্দে আর্থিক অসংগতি আছে কিনা– তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বালিজুড়ি ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে থাকা পাহাড়ি বনভূমি উদ্ধার করে রাজার পাহাড়ে সাড়ে বারো হেক্টর জমিতে ‘খাদ্য বাগান’ করা হয়েছে। শুধু বন্যহাতির খাদ্যের জন্য নয় বরং তাদের বাসস্থান তৈরি এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর বাসস্থান ও খাদ্যের জোগান দিতে এসব বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে।

শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক সাদিকুল ইসলাম খান বলেন, তিনটি রেঞ্জে ২৬০ হেক্টর বনভূমিতে খাদ্য বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব কমে আসবে বলে আমার বিশ্বাস। সূত্র: সমকাল

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়