ঢাকা থেকে দুবাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ এপ্রিল (রবিবার) বিএস-৩৪১ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে অবতরণ করে ফ্লাইটটি। স্থানীয় যাত্রী নামানো ও নতুন যাত্রী তোলার পর বিমানে জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, শতাধিক যাত্রীকে কেবিনে রেখেই জ্বালানি ভরা হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি ভরার সময় বিমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ। এতে বদ্ধ কেবিনে তীব্র গরমে দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নারী ও শিশুসহ অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে বাধ্য হয়ে কাগজ বা লিফলেট দিয়ে বাতাস করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্রুরা মাইকে যাত্রীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এক ঘোষণায় বলা হয়, “বিমানের তাপমাত্রা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে, উড্ডয়নের পর স্বাভাবিক হয়ে যাবে।” তবে কতক্ষণ এই পরিস্থিতি চলবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, ফলে কেবিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, যাত্রী থাকা অবস্থায় বিমানে জ্বালানি ভরার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ রাখা এই নির্দেশনার পরিপন্থী।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা গেছে। সূত্র: বিডি২৪লাইভ