শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে লিমন–বৃষ্টি হত্যা: তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য ◈ আজ পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ ◈ চীনের ব্যাটারি বিপ্লবে বদলে যাচ্ছে ইভি বাজার, ১০ মিনিটেরও কম সময়ে চার্জ হবে ইলেকট্রিক গাড়ি ◈ বড় বাজেট, বড় চ্যালেঞ্জ: ২০২৬–২৭ অর্থবছর নিয়ে দুশ্চিন্তা ও আশা ◈ সরকারি চাপে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড থে‌কে সভাপ‌তিসহ সবাই পদত‌্যাগ কর‌লেন ◈ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর গ্রেপ্তার ◈ পার্থের বক্তব্য ঘিরে সংসদ আবার উত্তপ্ত ◈ ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেওয়া হবে তার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে বসছে ৬ মুসলিম দেশ ◈ পাকিস্তান-আফগানিস্তান ভয়াবহ যুদ্ধের শঙ্কা, মধ্যস্থতার চেষ্টা চীনের ◈ চলমান যুদ্ধ বন্ধে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন শান্তি প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইরান

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:৪৮ সকাল
আপডেট : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাজধানীর যে বাজারে কম দামে মিলছে নিত্যপণ্য

নিত্যপণ্যের জন্য প্রায় প্রতিদিনই বাজার করতে হয়। দুর্মূল্যের এই সময়ে রাজধানীতে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়—এমন বাজারগুলোর মধ্যে একটি সাদেক খান কৃষি মার্কেট। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘আড়ত’ নামে বেশি পরিচিত। এখানে তাজা শাকসবজি, নদীর মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায়।

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে বছিলা তিন রাস্তার মোড় থেকে বাঁ দিকে গিয়ে বেড়িবাঁধের প্রধান সড়ক ধরতে হবে। সেখান থেকে এগোলেই রায়ের বাজার বধ্যভূমি ও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছেই বাজারটি।

রায়ের বাজারের বাসিন্দা করিম ব্যাপারী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আশপাশের অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে পণ্য কম দামে পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত এই বাজারেই কেনাকাটা করি।

তিনি বলেন, বাজারে সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। বিক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করেও কিছুটা সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে ভিড় একটু বেশি হলেও তুলনামূলক কম দামের কারণে সেটি মেনে নিতে হয়।

শাকসবজি

শাকসবজি কিনতে হলে একটু সকালে যেতে হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে তাজা সবজি এসে পৌঁছায়। ফলে সহজেই পছন্দমতো তাজা সবজি পাওয়া যায়, আর দামও তুলনামূলক কম থাকে।

শনিবার বাজারটিতে বড় আকারের গোল বেগুন কেজিপ্রতি ৬০–৭০ টাকা, টমেটো ৪০–৫০ টাকা, করলা ৭০–৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০–৭০ টাকা ও পেঁপে ২৫–৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ফুলকপি প্রতি পিস ২৫–৩০ টাকা ও আকারভেদে ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হয় লাউ।

সবজি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এখানে পাইকারি ও খুচরা সবজি বিক্রি করা হয়। তাই অন্যান্য বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা কম।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, আমি তিন বছর ধরে এই বাজার থেকে কেনাকাটা করছি। এখানে সব ধরনের সবজিই পাওয়া যায় ও দামও তুলনামূলক কম। অন্য বাজারের তুলনায় প্রতি কেজি সবজিতে গড়ে প্রায় ১০ টাকা কমে পাওয়া যায়।

আলু ও পেঁয়াজের আড়ত

দিনাজপুর, রংপুর, পঞ্চগড় ও বগুড়া থেকে আলু আসে। কেজিপ্রতি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। অন্যদিকে ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনা থেকে আসা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০–৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ ট্রেডার্সের মালিক আবদুল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, এখন আলুর সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজও বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত আসছে, তাই বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা নেই।

ফল ও তরমুজ

মৌসুমের রসালো ফল তরমুজ অন্যান্য বাজারে কেজি দরে বিক্রি হলেও এখানে পিস হিসেবে বিক্রি হয়। ৫–৬ কেজি ওজনের তরমুজ দেড়শ থেকে দুইশ টাকায় এবং ৭–৮ কেজির তরমুজ আড়াইশ থেকে তিনশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর কাঁচা আম প্রতি কেজি ৭০–৮০ টাকা।

এর সঙ্গে বাজারে কলা, পেঁপে, আনারস, আপেল, কমলা, পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন ফলসহ নানা ধরনের দেশি-বিদেশি ফলও পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে এসব ফলের সরবরাহ বাড়া-কমার ওপর দামের কিছুটা তারতম্য দেখা গেলেও অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে দাম তুলনামূলক কম থাকে। বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরাসরি পাইকারি আকারে ফল আসায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কম, ফলে ক্রেতারা কিছুটা কম দামে ফল কিনতে পারেন। 

মাছ-মুরগি

মাছ ও মুরগি কিনতে বাজারের ভেতরে ঢুকতে হবে। সেখানে জীবন্ত পাঙাশ মিলছে কেজিপ্রতি ১৭০–১৯০ টাকায়, তেলাপিয়া ১৮০–২০০ টাকা, রুই ২৮০–৩০০ টাকা। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০–৮০০ টাকায়, কাচকি ৬০০ টাকা কেজি। ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ টাকায়, আর পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে ১০ বছর ধরে মাছ বিক্রি করছেন আব্দুর রশিদ। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মাছ আসে। নদী ও হাওর এলাকার পাশাপাশি বিভিন্ন খামার থেকেও নিয়মিত মাছ সরবরাহ হয়। সরবরাহ ভালো থাকায় বেশিরভাগ সময় দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। তবে মৌসুম ও চাহিদা বাড়লে কিছু মাছের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

মাছের বাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ইকবাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ মোটামুটি ভালোই থাকে। তবে দামের দিক থেকে আগের তুলনায় কিছুটা চাপ রয়েছে।

প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০–১৯০ টাকায়, আর সোনালি মুরগি ৩৭০–৩৮০ টাকায়। একই সময়ে আশপাশের বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ও সোনালি ৪০০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া এই বাজারে শুঁটকি, ডিম, চাল, ডাল, মশলা ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায়।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়