শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০২২, ০৪:১৪ দুপুর
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২২, ০৪:১৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সালিশে অপমান হয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করেন সিরাজুল: র‌্যাব

মাসুদ আলম: মানিকগঞ্জের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধু জুলেখা বেগমকে হত্যা মামলার পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বামী সিরাজুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের সদর থানার চর সৈয়দপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ১৯ বছর পর বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ২০০২ সালের জুলাইয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার বাহেরচর এলাকার সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সিংগাইর থানার উত্তর জামশা গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে জুলেখা বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে  নগদ অর্থ, গহনা ও আসবাবপত্র বরপক্ষকে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে সিরাজুল জুলেখাকে আরও যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। 

তিনি আরও বলেন, যৌতুক না দিতে পারলে তালাক দেওয়ার ভয়-ভীতি দেখায়। এর মধ্যে জুলেখা ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। যৌতুক না পাওয়ায় তাদের পারিবারিক কলহ আরও বেড়ে যায়।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, সিরাজুলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে জুলেখার বাবা-ভাইসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রামে সালিশি বৈঠক হয়। সেখানে তার স্ত্রীর কোনো দোষ না পেয়ে প্রতিবেশী মোশারফ নামে এক যুবকের সঙ্গে জুলেখার পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরকীয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সালিশে সিরাজুলকে গালিগালাজ করে। এতে সিরাজুল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জুলেখাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সিরাজুল জুলেখাকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যান। এর তিনদিন পর সিরাজুল জুলেখাকে চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে মানিকগঞ্জ শহরে নিয়ে যায়। বিভিন্ন অজুহাতে গভীর রাতে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শ্বশুরবাড়ি না গিয়ে পাশে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে  জুলেখাকে হত্যা করে। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়