শিরোনাম
◈ প্রাইভেটকারের ওপর গার্ডার: ক্রেনের চালক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গার্ডার চাপায় নিহতদের ময়নাতদন্ত হবে সোহরাওয়ার্দীর মর্গে ◈ উত্তরায় দুর্ঘটনা: শিশু জাকারিয়া জীবিত ছিল আধাঘণ্টা ◈ পুলিশের উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে: এমপি শম্ভু ◈ রাজধানীতে ক্রেন থেকে রড পড়ে ৫ পথচারী আহত ◈ চকবাজার ও উত্তরার ঘটনায় শোক জানিয়ে তদন্তের দাবি ফখরুলের ◈ মানবাধিকারকর্মীদের কথা শুনলেন জাতিসংঘের মিশেল ব্যাচেলেট ◈ উত্তরায় ক্রেন দুর্ঘটনা: বেঁচে রইলেন শুধু নবদম্পতি ◈ খায়রুনকে লাথি মেরে সেই রাতে বাইরে যান স্বামী ◈ উত্তরায় প্রাইভেট কারের উপর ফ্লাইওভারের গার্ডার, নিহত ৫ (ভিডিও)

প্রকাশিত : ০৫ আগস্ট, ২০২২, ০৭:২৬ বিকাল
আপডেট : ০৬ আগস্ট, ২০২২, ০১:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ: ডাকাতরা চালক-সুপারভাইজারের পরিচিত!

ফয়সাল চৌধুরী: গত মঙ্গলবার সন্ধা ৭টায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর থেকে নারায়নগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় (পাবনা ব ১১-০১৫৪) নাম্বারের ঈগল নামের একটি বাস। বাসটি সিরাগঞ্জ পার হওয়ার পর পথিমধ্যে ৩ দফায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ ডাকাত দল বাসটিতে ওঠে। কিছুক্ষণ পরই ডাকাতদল চালককে সরিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে ৩  ঘণ্টা বাসের মধ্যে লুটপাটসহ নারকীয় তান্ডব চালায় ডাকাত দল। যাত্রীদের সবকিছু লুটে নেওয়ার পর এক নারীযাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। এরপর বাসটিকে ঘুরিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপরের দিকে নিয়ে যায় তারা।

ওইদিন ঈগল এক্সপ্রেসে বাসের চালকের পেছনের সিটে বসে ঢাকা যাচ্ছিলেন কুষ্টিয়ার প্রাগপুরে মকতব স্কুলপাড়া এলাকার আব্দুল আলিম ও ফিরোজ। তাদের দাবি, কোনো রকম টিকিটকাটা এবং সিগনাল দেওয়া ছাড়াই মাঝরাস্তা থেকে ডাকাত দলের প্রথম চারজনকে বাসে তোলেন বাসের সুপারভাইজার এবং চালক। 
 
আব্দুল আলিম কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্টে অনার্সের ছাত্র। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ভাইবা দিতে তার বন্ধুর সঙ্গে মঙ্গলবার ঈগল পরিবহনের ওই বাসে ঢাকা যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে ১৫/২০ মিনিটের মতো যাত্রা বিরতি দেয়। সেখানে খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিছুক্ষণ পর বাস চালক মনিরের মুঠোফোনে একটি কল আসে। 

তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে বাস ছাড়ার পর আমাদের পাশের যাত্রীরা ঘুমিয়ে গেলেও, আমি ও আমার বন্ধু ফিরোজ সজাগ ছিলাম। হঠাৎ বাসের চালককে বলতে শুনলাম তোমরা কতো দূরে আছো। কিছুক্ষণ পরেই একটি স্থানে বাসের গতি কমিয়ে দেয়া হয়, এরপর ৪জন যুবক বাসে উঠে। তাদের মধ্যে একজনের কাধে ব্যাগ ছিলো, তবে সবার মুখে মাস্ক পরা ছিলো। বাসে ওঠার পর তাদের সঙ্গে আরো ৩জন লোক আছে বলে সুপারভাইজারকে জানান তারা, এর কয়েক মিনিট পর একইভাবে ৩জন এবং তারপরে আরো ২জন লোক বাসে ওঠেন।

আলিম বলেন, ওই ৪ যুবক বাসে ওঠার ঠিক কিছুক্ষণ আগে বাসের সুপারভাইজার রাব্বী তার নিজের কয়েকজন লোক উঠে সেখানে বসবে, এমন কথা বলে বাসের পেছনের সিটে বসা হেকমত নামের এক যাত্রীকে সামনের সিটে গিয়ে বসতে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ৩ দফায় ডাকাত দলের সদস্যরা বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই তারা চালককে জোর করে সরিয়ে দিয়ে বাসের পিছনের সিটে বেধে রাখেন। তারপর তাদেরই একজন বাসটি নিয়ন্ত্রণ করে নেয়। এরপরই যাত্রীদের বেধে লুটপাট শুরু করে তারা। কেউ কোনো ধরণের কথা বলার চেষ্টা করলেই তাকে মারধর করা হয়।

তিনি বলেন, ডাকাতরা চালকের কাছ থেকে জোর করে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় আমি পকেট থেকে আমার মুঠোফোন বের করে ৯৯৯ ফোন দেয়ার চেষ্টা করি। তখন ডাকাত দলের এক সদস্য দেখতে পেয়ে আমার বুকের ওপর লাথি দিয়ে মোবাইল এবং টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়। আমার গায়ের জামা খুলে চাকু দিয়ে কেটে, আমার হাত এবং মুখ-চোখ বেধে বাসের পেছনে নিয়ে গলায় ধারালো কিছু ধরে রাখে। আর বলতে থাকে নড়াচড়া করলে তোকে মেরে ফেলবো। 

আলিমের পাশের সিটে বসা আরেক যাত্রী বলেন, সাধারণত রাস্তার মাঝ থেকে টিকিটবাদে যাত্রী তুলতে হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রীকে ইশারা দিতে হয়। কিন্তু চালক এবং সুপারভাইজার কোনো টিকিট বা ইশারা ছাড়াই প্রথম ওই ৪ যুবককে গাড়িতে ওঠায়। পরে ওই ৪ জনের কথা মতো আরো ২ দফায় একটু দূর থেকে আরো কয়েকজনকে বাসে ওঠায়। 

তিনি বলেন, লুটপাট শেষে মালামাল তারা গাড়িতেই ভাগবাটোয়ারা করেন। এসময় তাদের মধ্যে কিছুটা বাকবিতন্ডাও হয়। পরে ভোরের দিকে একটি এলাকায় বাসটির গতি কমানো হয় এবং ডাকাতদল তখন বাস থেকে নেমে যায়। পরে ডাকাতদলের চালক জানালা দিয়ে নেমে একটি মাইক্রোবাসে উঠে পালিয়ে যায়। 

ঈগল বাসের মালিক সোলায়মান হক বলেন, তার মোট ৫টি বাস আছে। তার মধ্যে ঈগল নামের একটি বাস কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন বাসটির চালক ছিলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কৈপাল গ্রামের মনিরুল ইসলাম। সুপারভাইজার ছিলেন পাবনা জেলা সদরের রাধানগর মহল্লার রাব্বী হোসেন ও হেলপার একই উপজেলার টেবুনিয়া গ্রামের দুলাল হোসেন। তার বাসে থাকা ওই ৩ কর্মী দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপকর্মের অভিযোগ শোনেনি তিনি। 

যত্রতত্র যাত্রী ওঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, বাসে সিট খালি থাকলে মাঝেমধ্যেই রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা হতো। একইভাবে ঘটনার দিনও কয়েকজন যাত্রী তোলা হয়েছিলো। যাত্রীর ছদ্মবেশে তারা যে ডাকাত ছিলেন, এটা বাসের কোনো স্টাফ বুঝতে পারেননি।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঈগল পরিবহনের ওই বাসটি প্রাগপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে ওই দিন গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে সেখান থেকে কয়েকজন ডাকাত যাত্রীবেশে ওই বাসে ওঠেন। এরপর বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর ডাকাতদল বাসটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাসে থাকা সব যাত্রীর হাত, পা ও চোখ বেঁধে মারধর ও লুটপাট করে। এ সময় বাসের ভেতরে এক নারী যাত্রীকে ডাকাত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ 

  • সর্বশেষ