শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ জুন, ২০২২, ০৩:১৪ দুপুর
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২২, ০৪:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মোবাইল ফোনসেট চুরি-ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৭

গ্রেপ্তারকৃত ৭ জন

সুজন কৈরী: রাজধানীর বনানী ও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে চুরি ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন কেনা-বেচা চক্রের মূলহোতাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আবুল হোসেন (২৮), নজরুল ইসলাম (৪৬), তাজউদ্দিন আহম্মেদ (৪৮), মাঈনউদ্দিন (৩০), সুজন মিয়া (২৩), মানিক (৩০) ও লিটন মিয়া (৪০)। তাদের কাছ থেকে ৬৫টি ট্যাব, ১০১৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসেট, ৩১৭টি বাটন মোবাইল ফোন, ৬টি সিমকার্ড ও নগদ ২০ হাজার ২১০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব বলছে, ছিনতাই ও চোরাই মোবাইল ফোনসেট অল্প দামে কিনে সেগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করছে কয়েকটি চক্র। গ্রেপ্তারকৃতরা চোরাই ও ছিনতাই করা মোবাইলের অবৈধ ব্যবসা করছিলেন। মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন চক্রের যোগসাজশে বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকানে গোপনে বিক্রি হচ্ছিল। এসব চোরাই মোবাইলের মূল ক্রেতা মূলত স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

শুক্রবার দুপুরে কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা রাজধানীসহ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অবৈধ মোবাইল কেনা-বেচায় তৎপর রয়েছেন। এসব মোবাইল ফোন বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকানে গোপনে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা কৌশলে নানা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন কেনা-বেচায় জড়িত রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালানো হয়। 

চক্রের মূলহোতা আবুল হোসেন। তার নেতৃত্বেই ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সদস্যরা কৌশলে নানা সিন্ডিকেট হোতার সঙ্গে যোগসাজশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল সংগ্রহ করতেন। চুরি এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন কমদামে কিনে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ভাসমান দোকানে বিক্রি করতেন তারা। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, মূলত ছিনতাই ও চোরাই মোবাইল ফোনগুলো অল্প দামে কিনে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করতেন তারা। 
তিনি বলেন, ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট পথচারীদের মোবাইল। এসব মোবাইল স্বল্পদামে চোরাই মোবাইল কারবারিদের কাছে বিক্রি করতেন। এরপর মোবাইলগুলোর আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিভিন্ন চক্রের যোগসাজশে বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকানে গোপনে বিক্রি করতেন। আইএমইআই পরিবর্তন করার কারণে এসব মোবাইল পরে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ডাকাতি, ছিনতাই ও চোরাইমাল বিক্রি ও কাছে রাখা আমলযোগ্য অপরাধ। তা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তারা নির্বিঘ্নে-নির্ভয়ে চোরাই মোবাইল বিক্রি ও আইএমইআই পরিবর্তনের অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছেন। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়