শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৫:৫৪ বিকাল
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ০৫:৫৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সূচক নামতে শুরু করেছে জলাতঙ্ক রোগীর

জলাতঙ্ক রোগী

সঞ্চয় বিশ্বাস: ‘জলাতঙ্ক: মৃত্যু আর নয়, সবার সঙ্গে সমন্বয়’ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশেও আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলা ট্রিবিউন

এক সময় আতঙ্কের নাম ছিলো জলাতঙ্ক। যা  ২০১০ সালের আগে দেশে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার মানুষ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতেন। ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে জলাতঙ্কমুক্ত করার লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মূল কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, জলাতঙ্ক রোগ শুধু কুকুর কামড়ালেই হয় না। বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানরের কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমেও এই রোগ হতে পারে। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে পানিভীতি, আলোভীতি, বায়ুভীতি হলেও এর শেষ পরিণতি মৃত্যু। তবে চিকিৎসা গ্রহনে এই রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। যদি কোনও প্রাণী, বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, বানর, বেজি, শিয়াল কামড় বা আঁচড় দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সাবান পানি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ১৫ মিনিট ধুতে হবে এবং সময়মতো জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশ সরকারের নানাবিধ স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফলে জলাতঙ্ক রোগের সংক্রমণ কমে এসেছে। অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের  মাধ্যমে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ে ৩০০টির বেশি জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।

এছাড়াও ঢাকায় মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ও ৫টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে জলাতঙ্কের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব কেন্দ্রে কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর কামড়/আঁচড়ের আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও কামড়ের ধরন অনুযায়ী আরআইজি দেওয়া হচ্ছে। সরকার প্রতি বছর প্রায় তিন লাখের বেশি জলাতঙ্ক সংক্রমণকারী প্রাণীর কামড়/আঁচড়ের রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা প্রদান করছে। এর ফলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকাংশে কমেছে।

জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, শতকের ঘর থেকে আক্রান্তের সংখ্যা নিচের দিকে নামছে। ২০১৪ সালে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছে ১০৬ জন, ২০১৫-তে ৮৩ জন, ২০১৬-তে ৬৬ জন, ২০১৭-তে ৮০ জন, ২০১৮ ও ২০১৯-এ ৫৭ জন, ২০২০ সালে ২৬ জন, ২০২১ সালে ৪০ জন এবং ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জন শিশু। বয়স্ক ব্যক্তিও আছেন এদের মধ্যে।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতে, দেশে ইতোমধ্যে ৬৪টি জেলায় প্রথম রাউন্ড, ১৭টি জেলায় দ্বিতীয় রাউন্ড এবং ৬টি জেলায় তৃতীয় রাউন্ড ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে কুকুরকে প্রায় ২২ লাখ ৫১ হাজার ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। যা মানুষ ও প্রাণিদেহে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া  হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়