শিরোনাম

প্রকাশিত : ১২ মে, ২০২২, ০৪:৩০ সকাল
আপডেট : ১২ মে, ২০২২, ০৪:৩০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বৃষ্টি: কৃষিতে ক্ষতির আশঙ্কা

বণিক বার্তা: খুলনায় ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে দুদিন থেমে থেমে ভারি ও মাঝারি বৃষ্টিপাতে বিপাকে রয়েছেন কৃষক। জেলার বিভিন্ন এলাকার জমিতে এখনো আধাপাকা বোরো ধান রয়েছে। রয়েছে শত শত বিঘার তরমুজ খেত। বৃষ্টিতে এসব ফসলের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। সৃষ্টি হয়েছে গভীর নিম্নচাপ। এ কারণে আরো দুদিন থেমে থেমে ভারি অথবা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ১৪ মে দুপুর থেকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

খুলনা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ বছর খুলনায় ৬২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আর তরমুজ আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে। ৭৫ শতাংশ তরমুজ ও ৯৩ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকিগুলো মাঠেই পড়ে আছে।

দাকোপ উপজেলার বাজুয়া গ্রামের কৃষক দেবাশীষ বাইন এ বছর ১১ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার সাত বিঘা জমির তরমুজ বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ ওঠেনি। দেবাশীষ বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ৩০-৩২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ২০-২২ হাজারের বেশি কেউ দাম বলছে না।

একই উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের মৌখালী গ্রামের কৃষক মজনু ফকির বলেন, তার তিন বিঘা জমির বেশির ভাগ তরমুজ ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজনের। লোকসান হবে জেনে তরমুজ কাটেননি।

শুধু দেবাশীষ বা মজনু নয়, তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটাসহ পাঁচ উপজেলার কৃষক। ঈদের পর থেকেই দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টো লোকসান বাড়ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। ফলে মাঠেই কোটি কোটি টাকার তরমুজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খুলনা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহরিয়ার আকুঞ্জী বলেন, চাষীরা তরমুজ মাঠ থেকে বিক্রি করতে না পেরে মোকামে নেয়ায় পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। আমাদের কিছু উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের মাধ্যমে সরাসরি খেত থেকে তরমুজ কেনার ব্যবস্থা করেছি। গত বছর এভাবে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের কিছু লাভ হয়েছিল।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এখনো কিছু ধান ও তরমুজ জমিতে পড়ে রয়েছে। যা আছে, তা ভারি বৃষ্টি হলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সেগুলো কেটে নেয়ার।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বরিশালে ভারি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় বরিশালের বিভিন্ন স্থানে টানা পৌনে এক ঘণ্টা বৃষ্টি হয়। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি থামলেও আকাশ মেঘলা রয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহফুজুর জানান, সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর বিপত্সংকেত ও স্থানীয় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর বিপত্সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বরিশালে দু-এক দিন এমন মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানান তিনি।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মাসুম জানান, বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় জেলাগুলো ও দ্বীপ-চরাঞ্চলে জোয়ারের পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করেনি। সকাল থেকে কীর্তনখোলার পানি বিপত্সীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, কীর্তনখোলা নদীর পানির বিপত্সীমা হচ্ছে ২ দশমিক ৫৫ মিটার। গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত পানির উচ্চতা ছিল ১ দশমিক ৩৫ মিটার। দুপুর ১২টায় বৃষ্টিপাতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৪৮ মিটার। সে হিসেবে শূন্য দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে প্রবাহিত হচ্ছে কীর্তনখোলার পানি। তবে ধীরে ধীরে তা কমে যাবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় অশনির কোনো প্রভাব পড়েনি বরিশাল নৌরুটে। এখন পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের নিচের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বরিশাল থেকে এখন আর ৬৫ ফুট দৈর্ঘ্যের নিচের লঞ্চ চলাচল করে না। তাই বরিশালে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে ঝালকাঠিতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে ১ ঘণ্টা ভারি বৃষ্টিপাত হয়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। জেলার সুগন্ধা, বিষখালী ও হলতা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবীরা।

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) বশির গাজী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় অশনি মোকাবেলায় জেলার ৪৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বণিক বার্তার খুলনা, বরিশাল ও ঝালকাঠি প্রতিনিধি।

  • সর্বশেষ