শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ০৪:৩০ দুপুর
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ১০:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আরপিও সংশোধন প্রস্তাবে সাড়া নেই, মন্ত্রণালয়কে ইসির চিঠি

নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল

এম এম লিংকন: ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের বিষয়টা আইন মন্ত্রণালয় নিশ্চয় রেসপন্স করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। এর আগে আরপিও সংশোধন নিয়ে তিন বার চিঠি দিয়েও আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সাড়া না পাওয়ায় আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে মতামত চেয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে শেষ বারেরমত চিঠি দিয়েছে ইসি।  রাববার (২৭ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

যেহেতু সময় বেঁধে দিয়েছি ওই সময়ের মধ্যে তারা একটা রেসপন্স নিশ্চয় করবেন প্রত্যাশা করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আর দেরি হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন ব্যস্ততা থাকে, আমরা বিশ্বাস করি ব্যস্ততার কারণে হয়তো সময় করে ওঠতে পারেননি। এখন আমরা তো অনন্তকাল ধরে একটা মেটার পারস্যু করতে পারবো না। এজন্য আমরা বিষয় শেষ করে দিতে চাই। ঠিক আছে যদি না হয়, আমরা অন্য কাজে মনযোগ দেবো। এ বিষয় নিয়ে হয়তো আর আমাদের পারস্যু করতে হবে না। আমরা করবো না। এই চিঠির পর আর রিকোয়েস্ট করা হবে না।

এই আইনি সংস্কার না হলে ভোট কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা ওই তারিখটা (১৫ ডিসেম্বর) আসুক, ওর পরে আমরা যদি মনে করি যে আমাদের কী করতে হবে, তখন কমিশন বৈঠকে বসে হয়তো একটা সিদ্ধান্ত নেবো। এটা কী খুব গুরুত্বপূর্ণ কিনা, কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখবো।

সুষ্ঠু নির্বাচনে এই আইন সংশোধনের গুরুত্বপূর্ন বলেই তো প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। সবকিছুই যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার সবকিছুই যেসব সময় অ্যাড্রেস হবে তা তো না এবং সরকারেরও একটা নিশ্চয় যুক্তি আছে বা যুক্তি থাকবে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করতে পারি সরকারেরও যুক্তি থাকতে পারে, যে না; প্রয়োজন নেই। এটা অলরেডি অ্যাড্রেস আছে কোথাও।

যদি অ্যাড্রেস হয়ে থাকে সেটাও যদি আমরা জানতে পারি তাহলে এই জিনিসটা নিয়ে আর আমাদের পারস্যু করার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সেটাই আমরা চেয়েছিলাম যে, সরকারের রেসপন্স কী? তাদেরও এই আইনটা নিয়ে একটা যুক্তি থাকতে পারে, কারণ অথরিটি তারা। অথরিটি সরকার ও পার্লামেন্ট। তারা যদি মনে করেন পর্যাপ্ত আইন রয়ে গেছে। এ বিষয়ে করার কিছু নেই, এইটুকু আমাদের জানিয়ে দিলেও আমরা সেটা বিবেচনা করতে পারতাম।

আইন সংশোধন না হলে কী প্রত্যাশিত ভোট হবে এই প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এই নিয়ে কোনো মন্তব্য এখন আর করবো না।

বিদ্যমান আরপিওতে যেসব সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ভোট বাতিলে ইসির ক্ষমতা ও ভোট বন্ধে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার ক্ষমতা বাড়ানো, প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখালে বা কেন্দ্রে যেতে বাধা দিলে শাস্তির বিধান, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দিলে শাস্তি, দলের সর্বস্তরের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া, দায়িত্বে অবহেলায় কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতা বাড়ানো, প্রার্থীদের আয়কর সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, ভোট গণনার বিবরণী প্রার্থী তার এজেন্টদের দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিন পর্যন্ত খেলাপি বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি) পরিশোধের সুযোগ দেওয়া, রাজনৈতিক দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র ৩০ দিনের মধ্যে ইসিতে জমা দেওয়ার বিধান করার প্রস্তাব ইত্যাদি।

গত আগস্টে এসব প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর গত ৪ অক্টোবর ইভিএম–সংক্রান্ত একটি সংশোধনী প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়েছে, ভোটারের আঙুলের ছাপ না মিললে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোট ভোটারের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ভোটারকে ভোট দেওয়ার অনুমতি (কর্মকর্তার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে) দিতে পারবেন।

মিমোলি/নাহা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়