শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০৬:৩৮ বিকাল
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ১০:৩৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বেড়েই চলেছে চালের দাম 

চালের দাম 

মিনহাজুল আবেদীন: [২] দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। হুহু করে বাড়ছে চালের দাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৬-৭ টাকা করে বেড়েছে। 

[৩] ব্যবসায়ীদের দাবি, অটো মিল মালিকেরা চাল মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ করে দাম বাড়িয়েছেন।

[৪] হিলি বাজারে চাল কিনতে আসা ভ্যানচালক গোলজার হোসেন বলেন, ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাই। সারা দিন ভ্যান চালিয়ে দুই থেকে আড়াই শ টাকা আয় হয়। কিন্তু যে হারে চালের দাম বাড়ছে তাতে করে চাল কিনতেই সব শেষ, বাকি খরচ আর করব কীভাবে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

[৫] মেহেরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, নতুন ধান উঠেছে। এই সময়টাতে তো চালের দাম কমার কথা কিন্তু উল্টো দাম বাড়ছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাড়তি দামের কারণে মানুষ যে চাল কিনে খাবে সেটিও কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের তো সংসার চালাতে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। আগে যেখানে ৩ কেজি চাল কিনতাম এখন সেখানে ২ কেজি চাল কিনে আধপেট খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

[৬] হিলি বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, প্রতিবছর এমন সময় চালের দাম কমে কিন্তু এবারই ব্যতিক্রম চালের দাম বাড়ছে। এর কারণ হলো ধানের দাম বৃদ্ধি। যে ধান হাজার টাকার নিচে ছিল, সেই ধান বর্তমানে ১১০০ থেকে ১১২০ টাকা মন চলছে। সেই সঙ্গে আবহাওয়া খারাপ, এর ওপর শ্রমিক সংকটের কারণে স্থানীয় হাসকিং মিলগুলো চাল উৎপাদন করতে পারছে না। এই সুযোগে অটো মিল মালিকেরা ধান কিনে চাল করে সব চাল মজুত রেখে বিক্রি বন্ধ করে রেখেছেন। বর্তমানে চাল চাইলেই তারা বলছে চাল নেই। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারের ওপর।

[৭] চাল বিক্রেতা সুব্রত কণ্ডু বলেন, চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৬/৭ টাকা করে বেড়ে গেছে। লোকাল মিলগুলো সব বন্ধ আর এই সুযোগে অটো মিল মালিকেরা চাল আটকে রেখে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ভরা মৌসুমে যদি চালের দাম বাড়ে তাহলে আর তো দিন পড়েই আছে, তাই সরকারের উচিত পদক্ষেপ নেওয়া। 

[৮] হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, বর্তমানে সাধারণ যে মোটা চাল সেটি আমদানি একেবারেই হয় না। মাঝে মধ্যে বাসমতি চাল আমদানি হয়। চলতি মাসেও ১ ট্রাকে ৩৫টন ও গত মাসে ১ ট্রাকে ৩২টন বাসমতি চাল আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকার শুল্ক কমিয়ে দেওয়ায় বন্দর দিয়ে বেশ পরিমাণে চাল আমদানি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ওই সুযোগ না দেওয়ায় বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চাল আমদানিতে ৬২ভাগ শুল্ক আরোপ রয়েছে আর রেয়াতি হারে সুযোগ দিলে ২৬ ভাগ শুল্ক দিতে হয়। রেয়াতি হারে চাল আমদানির সুযোগ দিলে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি বাড়ে।

[৯] হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুর-এ আলম বলেন, বাজারে অহেতুক কেউ যেনো কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কোনো অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশ রূপান্তর 

  • সর্বশেষ