শিরোনাম

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০৫:৩৫ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫% 

মনজুর এ আজিজ : বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের ধাক্কা লেগেছে রপ্তানিতে। টানা ১৩ মাস ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর দেশের রপ্তানি কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে ৩৯০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পোশাক রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান দুই বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। তাদের এখন খাদ্যের পেছনেই অনেক বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে। অবশ্য সার্বিকভাবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রপ্তানি ইতিবাচক ধারাতেই আছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

গত বছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ১০২ কোটি ডলারের পণ্য। সূত্র মতে, গত মাসে সার্বিক রপ্তানি কমেছে মূলত পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে। গত মাসে ৩১৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কম।

গত মাসে ওভেন ও নিট উভয় ধরনের পোশাক রপ্তানিই হ্রাস পেয়েছে। তবে সার্বিকভাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তৈরি পোশাকের রপ্তানি নিয়ে উদ্যোক্তারা কয়েক মাস ধরে বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সেখানকার মানুষেরা গাড়ির জন্য জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের বাইরে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। সে কারণে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান দু-তিন মাস ধরে নতুন ক্রয়াদেশ কম দিচ্ছে। পাশাপাশি ক্রয়াদেশের পণ্য প্রস্তুত হওয়ার পরও জাহাজীকরণের অনুমতি দিচ্ছিল না অনেক প্রতিষ্ঠান। মূলত এতেই আরও কমে গেছে রপ্তানি।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হস্তশিল্প, বাইসাইকেল, আসবাব রপ্তানি কমে গেছে। তৈরি পোশাকের পর সবচেয়ে বেশি ৩৫ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে।

গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় হোম টেক্সটাইলের রপ্তানি ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। তৃতীয় শীর্ষ রপ্তানি হয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ৩২ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের। গত বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমই সভাপতি ফারুক হাসান জানান, আমরা আগের থেকেই বলে আসছি সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় কমে যাবে।

এর মূল কারণ হিসেবে তিনি সরকারের বিভিন্ন সেক্টরকে দায়ী করেছেন। তিনি রোববার এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ৪টি ইউনিটের হয়তো একটি ইউনিটের কমপ্লায়েন্স নেই। সেই ইউনিটের পণ্য পেলে বাকী ৩টি ইউনিটের পণ্যও রপ্তানিতে বাধা দেয় কর্তৃপক্ষ।

এতে সময় নষ্ট ও অর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার তেল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে লোডশেডিং করছে। এতে কারখানাগুলোতে ৪-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা।

ফলে জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন করতে খরচ অনেক বেশি পড়ছে। উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ায় ছোট কারখানাগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখছে।

এতে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া গ্যস সংকটে অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এসমস্ত কারণে সময়মতো রপ্তানি করতে না পারায় রপ্তানি কমে গেছে বলে জানান তিনি। 

  • সর্বশেষ