শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২২, ০৫:০৫ বিকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২২, ০৫:২৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কমেছে ডিম, বেড়েছে মাছের দাম

শাহীন খন্দকার: ভাতে মাছে বাঙালি এখন ইতিহাস হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর কৃষি বাজারের মাছ ব্যবসায়ি শরিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, যতোই দিন  যাচ্ছে মাছের দামও ততোধিকই বাড়ছে।  প্রতি সপ্তাহেই এখন মাছের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। আর ইলিশ মাছ ভরা  মৌসুমেও বাজারে ঈলিশ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে শরিফ উদ্দিন বলেন, পদ্মা-যমুনা ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও বাজারে না থাকার কারনেই দাম বেশি।

কারণ পদ্মার মাছ এখন পদ্মাসেতু দিয়ে পাচাঁর হয়ে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। ফলে স্থানীয় বাজারের ইলিশ মাছ নেই, যা আছে দাম ও অনেকা। একটি ইলিশের দাম সাইজ অনুযায়ি কেজি বিক্রি হচ্ছে ছোট সাইজের ইলিশ ৭০০-১০০ টাকা আর মাঝারি সাইজের ইলিশ ১২-১৭০০ আর বড় সাইজের একটি ইলিশের দাম ১৭০০-১৯০০ টাকায়। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মাছের দাম বৃদ্ধির পেছনে জ¦ালানি তেলও কারণ।

এদিকে মাছ ব্যবসায়িরা আরো বলেন, হাওড়বিল নদী নালা আগের মতো না থাকাসহ বর্ষার পানি না থাকায় নদীতে মাছ কম পাওয়ার নানা কারণ  জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পুকুরের চাষ করা কমদামি মাছগুলোর মধ্যে অন্যতম পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন,১৫০ টাকার নিচে মাছই নেই বাজারে। আগে ৫০-১০০ টাকা হলেই মাছ কেনা যেত, এখন লাগে ২০০ টাকা। বর্তমানে নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা তো আরও খারাপ। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় দেশের মানুষ ভুলে যাবে ভাতে-মাছে আমরা বাঙালী একথাটি।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে ডিম ও মুরগির দাম কমেছে। আজ শুক্রবার বাজারে ডিমের হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । এবং মুরগির দাম কেজিপ্রতি কমেছে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত। সকালে সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এক ডজন ডিম বিক্রি করছেন ১২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিলো ১৫০-১৬০ টাকা।

গত ৩দিন আগে কোনো কোনো মুদি দোকানে এক পিস ডিম ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আজ সেই ডিমের ডজন ১২০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। ডিম ব্যবসায়ি সফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তৎপর হলেই ডিমের মতো সকল পণ্যের দাম কমে আসবে। প্রশ্নের জবাবে সফিকুল ইসলাম বলেন, আড়তদারদের কারসাজিতে বাজারে ডিমের দাম বেড়ে গিয়েছিলো। তিনি বলেন, যে পন্যে আমদানি নেই সেই পণ্যের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ স্থানীয় পলেটিক্স । তিনি বলেন, সামনে ডিমের দাম আরও কমতে পারে। গরমের কারণে একদিকে ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে, অন্যদিকে বাজারে ডিমের সরবরাহ বেড়েছে। সবকিছু মিলেই দাম কমছে। লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা ডজন আর হাঁেসর ডিম ১৮০ এবং পাকিস্তানী মুরগীর ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিলো ২০০ টাকা। আর পাকিস্তানী কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকা। মুরগির দামের বিষয়ে কৃষিবাজারের ব্যবসায়ী সফি বলেন, দাম কিছুটা কমেছে। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন নতুন সবজি শিম। এক কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। টমেটো ১৫০ ফুলকপি পিচ ৫০-৬০ বাধাকপি ৫০ টাকা , এদিকে গত সপ্তাহে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম কিছুটা কমেছে। এখন এক কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। একইসঙ্গে কমেছে টমেটোর দামও। ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। বরবটি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। 

বাজারে বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি ৭০-৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ৩০ টাকা আর পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজির দাম বেড়েছে ৫-৩০ টাকা কেজিতে। দাম অপরিবর্তিত থাকার তালিকায় আরও রয়েছে কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁচ কলা। বাজারে ডিম, মুরগি ও পেঁয়াজের দাম কমেছে। অপরিবর্তিত আছে ভোজ্যতেল ও চালের দাম। ব্যবসায়িরা আরো জানিয়েছেন, মুরগির উৎপাদন বাড়ায় কমেছে দাম। গত সপ্তাহে দাম বেড়েছিল  ডিম ও মুরগির। ওই দাম বাড়ার মূল কারণ ছিল পাইকার ও খামারির।

গত সপ্তাহের মতোই বাড়তি দামেই  বিক্রি হচ্ছে চাল। সকল ধরনের মোটা ও চিকন চাল আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামের বিষয়ে মোহাম্মদপুর কৃষিবাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, সবজির মুল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারন  তেলের মুল্যবৃদ্ধি ,রাস্তায় রাস্তায় পুলিশের  শ্রমিক ইউণিয়ণ এবং রাজনীতির নামে চাঁদাবাজিই মূলত দাম বৃদ্ধির কারণ।

  • সর্বশেষ