শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:৫০ বিকাল
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:৫০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাজারীবাগে সন্ত্রাসী হাসু বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর হাজারীবাগে সন্ত্রাসী হাসিবুর রহমান ওরফে হাসু বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন ( ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী নাসিম রহমান এ দাবি জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। হাজারীবাগ বাড়েইখালীস্থ বাড়িটি আমি ও আমার দুই ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন ও সেলিম খরিদা ও পৈতৃক সূত্রে জমির মালিক। ওই জমিতে গরুর খামার, নার্সারী, গুডাউন আছে এবং কিছু ভাড়াটিয়া বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমান ওরফে হাসু বিভিন্ন ভাবে আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। এছাড়া ওই জমিতে ব্যবসা ও বসবাস করলে হাসুকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। 

গত ১৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসু তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মেইন গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়। আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গেইটের তালা ভেঙ্গে ভাড়াটিয়াদের উদ্ধার করি। পরদিন ১৭ নভেম্বর সকাল ১১ টার দিকে আমি ও আমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান, সেলিম রহমান (জার্মান প্রবাসী, জার্মান সিটির কাউন্সিলর), আমার ম্যানেজার ইউনুস সহ ভাড়াটিয়াদের খোঁজ খবর নিতে বাড়িতে যাই, ভাড়াটিয়াদের ভয় না পাওয়ার জন্য আশ্বস্ত করি। 

ফেরার পথে হাজারীবাগ থানাধীন রায়ের বাজারস্থ মেরিস্টোপ ক্লিনিক এর সামনে পৌছা মাত্র হাসুর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন আমাদের পথ গতিরোধ করে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ আমরা কিছু বুঝার আগেই আমাদের উপর আকস্মিক হামলা করে।

নবারুন আমার ছোট ভাই সেলিমকে জড়িয়ে ধরে রাখে এবং আরিফ আমার ভাই সেলিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় সজোরে কোপ দেয়। এতে আমার ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে যায়। পারভেজ নামের আরেক সন্ত্রাসী ম্যানেজার ইউনুসকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধারলো ছুরি দিয়া তাহার গলায় আঘাত করে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তাার বাম গালে লাগে। এতে সেও মারাত্মভাবে জখম হয়। 

এছাড়া আমার মাথায় পিস্তল ধরে, একপর্যায়ে পিছলের বাট দিয়া আমার মাথা ও কাপালের দুই পাশে আঘাত করে। সাগর ও লোকমান আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং তাহার চোখে মুখে কিল ঘুষি মারে। এতে আমার ভাই চোখ, মুখ সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম প্রাপ্ত হয়। সন্ত্রাসীরা আমার কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত একটি শর্টগান ও আমার ভাই সেলিম রহমান এর একটি ২২ বোর রাইফেল এর ৮০ (আশি) রাউন্ড গুলি অস্ত্রের লাইসেন্সটি ধস্তাধস্তি করে নিয়ে যায়। যাহা রাইফেল নং-এ৫৪৬০৪৫, জিএসজি-৫, লাইসেন্স নং- ৫৩/০২/২০২১ ও শর্টগান লাইসেন্স নং-৩৮/১১/৯৩ এবং আমার ছোট ভাই সেলিম এর কাছে থাকা দেশী বিদেশী ক্রেডিট কার্ড, মূল্যমান কাগজপত্রসহ নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আমর ডাক চিৎকার করিলে আশে পাশের লোকজন আসলে আমাদেরকে ভয়ভীতি হুমকী প্রদান কওে সন্ত্রাসীরা চলে যায়। 

আশে পাশের লোকজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় আমাদেরকে উদ্ধার কওে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়া যায়। ডাক্তার আমার ভাই সেলিম এর মাথায় ১৯ টি সেলাই প্রদান করে এবং ম্যানেজার ইউনুস এর গালে পাঁচটি সেলাই করে এবং আমিসহ আমার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। আমার ভাই সেলিম গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা দায়ের করি। মামলায় হাসু, আরিফ, নবারুন, পারভেজ, সাগর, লোকমান, সাকিব, রাসেল, মোকাচ্ছেল, রাকিব, নাদিম রাজু এবং দুলালসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করি। এর মধ্যে পারভেজ গ্রেফতার হয়। বাকিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি।
 
তিনি বলেন আসামীরা বিভিন্নভাবে আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এ আবস্থায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশের কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে রায়েরবাজার এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী হাবিবুর রহমান ওরফে হাসুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ

কেএ/এএ

  • সর্বশেষ