শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৭:৩৮ বিকাল
আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৭:৩৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রায়পুরায় চেয়ারম্যান হত্যার পর বেড়েছে লুটপাট

এম.আজিজুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী): নরসিংদী জেলার বৃহত্তর উপজেলা রায়পুরার চরাঞ্চলের একটি ইউনিয়ন মির্জারচর। যেখানে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ইউনিয়নটির শান্তিপুর গ্রামের শান্তিপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় ওই ইউনিয়নের দুই বারের নিবার্চিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নটির যুবলীগের দুই বারের সভাপতি জাফর ইকবাল মানিককে।

মানিক হত্যার পর পরই মির্জাচরের মানুষদের বাড়ি-ঘরে শুরু হয় ভাংচুর ও লুটপাট। নিহত চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের লোকজনের উপর উঠেছে এমন অভিযোগ। 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামটিতে আধিপত্ব্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মানিক চেয়ারম্যানের সমর্থক ও ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফিরোজ মিয়া ও তার ছেলে ফারুকুল ইসলাম ফারুকের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। টানা ২বার ইউপি নিবার্চনে ছেলে ফারুকুল ইসলাম ও বাবা ফিরোজ মিয়া নৌকা প্রতীক নিয়েও আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মানিকের কাছে পরাজিত হয়। আর এতেই তাদের মধ্যে আরো গভীর শত্রুতার সৃষ্টি হয় এবং পরিশেষে প্রাণ দিতে হয় চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের।

সরজমিনে সাংবাদিকরা মিজার্চর ঘুরে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানতে পারে প্রথমেই একটি পরিবারের কাছ থেকে চাওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। টাকা কম দিলে কিংবা টাকা দিতে মানা করলেই ঘটে বিপত্তি। সুযোগ বুঝে অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, স্বণালংকার, টাকা-পয়সা, গরু-ছাগল সহ খুলে নিয়ে যাওয়া হয় টিনের চালও। লুটপাটের স্বীকার ভুক্তভোগীরা যে সব হারিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার খাবে তারও কোন সুযোগ নেই। সবকিছু লুটপাটের সাথে চাল, ডাল, তেল ও অন্যান্য খাবার জিনিস গুলোও যে তারা নিয়ে যায়।

আর কারো আধাপাকা ঘর থাকলে লুটপাটের পর টিনের চাল নেওয়ার পর দেয়াল ভেঙ্গে ইটগুলো খুলে দেওয়া হয়। এসব ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা সব থেকে বেশি হচ্ছে ফারুকুল ইসলাম ফারুক সমর্থিত লোকজনের উপর। তবে কোন দলে না থাকা মধ্যস্থানের লোকজনের বাড়িঘরেও হর হামেসায় ঘটছে এসব ভাংচুর ও লুটপাট। তাদের ভয়ে মুখ খুলতে চান না গ্রামের কেউ। তবে সম্প্রতি ভয়কে জয় করে মিজার্চর ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামে ১৫ জানুয়ারি প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর মহিলা বাদী হয়ে প্রয়াত চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের ভাই হানিফ মিয়া সহ ২২ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। 

ভুক্তভোগী মহিলা সাংবাদিকদের জানান, গত ১২ জানুয়ারি প্রয়াত মানিক চেয়ারম্যান সমর্থিত লোকজনেরা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তা না দিলে তারা বাড়িÑঘর ভাংচুর ও লুটপাট করবে এমন হুমকিতে আমি তাদের ৪০ হাজার টাকা দিই। পরে ১৫ জানুয়ারি দুপুরে তারা প্রায় অর্ধশত লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে এসে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমার কাছে ওই সময় টাকা না থাকায় আমি টাকা দিতে আস্বীকার করি। পরে তারা আমার বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তখন আমি মির্জাচর পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে পুলিশ এসে মালামাল সহ হাতেনাতে কিছু সংখ্যক আসামীকে গ্রেপ্তার করে।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান হত্যার পর এ গ্রামে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে তারা। তারা টিভি, ফ্রিজ, স্বণালংকার, গরু-ছাগল, ঘরে থাকা আসবাবপত্র সহ চাল-ডাল গুলোও নিয়ে গেছে। তাদের ভয়ে গ্রামের মানুষেরা অন্যত্র গিয়ে বসবাস করছে। যারাও আছে তারাও আমার মতো নির্যাতন সর্হ্য করে তাদে চাঁদা দিয়ে গ্রামে থাকতে হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রয়াত চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের ছোট ভাই হানিফ মিয়া বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ফারুকের সমর্থিত লোকেরা নিজেরায় নিজেদের ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। কেউ তাদের ঘর-বাড়ি অন্যত্র নিয়ে গেলে তো আমরা তাদের বাঁধা দিতে পারি না.!

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রায়পুরা থানা’র ওসি তদন্ত গোবিন্দ সরকারের এর সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মহিলার করা অভিযোগের পর ৮জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মালামাল উদ্ধার আছে। এটি ছাড়াও মির্জাচরে আরো প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ আমরা পাই নি। যে অভিযোগ পেয়েছি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়