শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৬:৫৩ বিকাল
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৬:৫৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

 ঘটনার ৩ দিন পর প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের, গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি

ঘটনার ৩ দিন পর প্রতিবাদ আওয়ামী লীগের

ফজলুল হক, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণের তিন দিন পর  বৃহস্পতিবার দুপরে প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। এদিকে ওই ঘটনায় মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এলাকাবাসী, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল মান্নান শেখ বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো দেড়শ জনকে আসামি করা হয়। 

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, সোমবার রাতে আসামীরা চন্দ্রা কালিয়াকৈর পৌরসভার চন্দ্রা এলাকায় পৌর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে ইটপাটকেল ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। কিন্তু ওইদিন বাদী আব্দুল মান্নান মামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। অথচ ওই মামলায় ওইদিন রাতে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আকুলকে এবং পরের দিন বুধবার রাতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

এরপর গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এদিকে ওই ঘটনার তিনদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ। উপজেলার সফিপুর এলাকায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবীরের ব্যক্তিগত অফিসে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ওই সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেন জয়, সাধারণ সম্পাদক সিকদার জহিরুল ইসলাম জয়, পৌর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের অফিস সহকারী ও মামলার বাদী আব্দুল মান্নানসহ আরো অনেকে।

 এসময় বাদী বলেন, এর আগে ভয়ে আমি উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়েছিলাম। আসলে তারা ইটপাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং আমিই মামলা করেছি, এটাই সত্য। 

প্রতিবাদ সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুরাদ কবীর বলেন, ওইদিন রাতে তারা বিএনপির শ্লোগানে মশাল মিছিল নিয়ে পৌর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে এসে ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই আইনের মাধ্যমে এর বিচার দাবী করছি। বিগত দিনেও বিএনপি জ্বালাও পুরাও, মানুষ হত্যার মাধ্যমে উত্তপ্ত করেছে। আপনারা (বিএনপি) দয়া করে অন্যের অফিসে হামলা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও ক্ষতি না করে সুষ্ঠ-সুন্দর গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করুন। 

গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, এমন কোনো ঘটনাই সেদিন ঘটেনি। এটা গায়েবী মামলা। বিএনপির নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখার জন্যই সাজানো ঘটনা দিয়ে মামলা দেয়া হচ্ছে। বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম কমিয়ে রাখতে এই গায়েবী মামলা শুরু করেছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান জানান, ওই মামলায় দুই আসামীকে গ্রেপ্তারের পর গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/জেএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়