শিরোনাম
◈ ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার ◈ আগামী বাজেটে স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হলো বিশ্বকা‌পের ফিফা রেফারি ওমর আরতান‌কে ◈ যুক্তরা‌স্ট্রে বিশ্বকাপ চলাকালীন খলনায়ক হয়ে আস‌তে পারে বজ্রঝড় ◈ রাশিয়ার শ্রমবাজারে বড় সুযোগ: ১ লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার প্রস্তাবে সম্মতি মস্কোর ◈ কুমিল্লার নিমসার বাজার এলকায় অটোরিকশা শ্রমিকদের তাণ্ডব, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর (ভিডিও) ◈ ‘শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা’ (ভিডিও) ◈ যে কারণে ইসরায়েলে হামলার সময় ইরানের কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই ঠেকায়নি যুক্তরাষ্ট্র! ◈ ব্যাংক অনুদানের অডিট ২০১৫-২৪: প্রধানমন্ত্রীর তহবিল ও হাসিনা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গেছে ১২৪৩ কোটি ◈ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে!

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬, ০২:৩৫ দুপুর
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৫:১১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

নাটোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে। শিশুর জন্য ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওই নারীকে ডেকে নিয়ে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তলব করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় ওই নারীকে আইনি পদক্ষেপ না নিতে চাপ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্তদের শুধু শাসিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী। এ ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৩) ও প্রাঙ্গণ (২৪)। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে নাটোর সদর থানায় এই তিন জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীর স্বামী। অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে ৫ জুন তাকে নাটোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ জুন সকাল ১০টায় শিশুটির বাবা হাসপাতালে স্ত্রী-সন্তানের খোঁজ নিতে এসে দেখেন তাঁরা কেউ সেখানে নেই। তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে হাসপাতালে নার্সদের থাকার একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন একটি বেডে তাঁর স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে শুয়ে আছেন।

এ সময় তাঁর স্ত্রী জানান, ৭ জুন সকাল ১০টায় শিশুর জন্য ওষুধ নিতে হাসপাতালের স্টাফ পরিচয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁকে ডাকতে আসেন। সন্তানকে রেখে তিনি অমিতের সঙ্গে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় গেলে সেখানে অনিল ও প্রাঙ্গণ নামে অপর দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সহায়তায় অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন অনিল ও প্রাঙ্গণ। ধষর্ণের ঘটনা জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা।

এদিকে, এক অসুস্থ শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে হাসপাতালের নার্সরা তার মাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে হাসপাতালের সিসিটিভিতে দেখা যায় ষষ্ঠ তলার ঘটনাটি। তখন হাসপাতালের আনসার সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এ সময় ওই তিনজন বিনা বাধায় সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে ছয়তলার সিঁড়িতে গিয়ে তাদের পাই। এরপর তাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথমে অভিযুক্তরা ঘটনাটি স্বীকার করেনি। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী চড়াও হন তখন তারা সব স্বীকার করে।’

হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার মো. মোন্নাফ হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘অমিত আমাকে ধর্ষণ করেছে। বাকি দুজন ভিডিও করেছে মোবাইলে। অমিতের পর তারাও আমার সঙ্গে এমনটা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের লোকজন এসে পড়ায় তারা পালিয়ে যায়।’

ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, এ বিষয়ে আজ সকালে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাটি জানার পর কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া হলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আরশেদ আলী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, ‘যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।’

নাটোরের পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উৎস: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়