শিরোনাম
◈ সুখবর পেলেন ঋতুপর্ণারা, ফিফা নারী র‍্যাংকিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ১০৬ নম্বরে বাংলাদেশ ◈ রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন তারেক রহমান ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে স্টোর ভবনে আগুন ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ২৬ অক্টোবর, সই হবে অন্তত ৪ সমঝোতা স্মারক ◈ যে কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে যা জানা গেল ◈ জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি নির্দেশনা ◈ ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দিল্লি থেকে টাকা আসছে কলকাতায়, উসকানি ছড়াচ্ছে বাংলাদেশ থেকে: দিলীপ ঘোষ ◈ ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ কার্যকর ◈ নাটোরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, চালকসহ ৭ জনের পরিচয় শনাক্ত ◈ ভারতের আসামে দুই দিনে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, ভাঙা হলো ১০টির বেশি মসজিদ

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৫, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন ও সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ উপকূলীয় মানুষের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে

এস. এম সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল মৎস্যভান্ডার নামে খ্যাতবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে পরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এটা ঠিক যে, বিশ্ব ব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তেনের পিছনে যেমন প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে তেমনি রয়েছে মানব সৃষ্ট কারণ। বরং মানব সৃষ্ট কারণই এখন মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাস, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বৃষ্টিপাতের সময় ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে তার প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে মেরু অঞ্চলের হিমবাহের আয়তনেরও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন যাপন থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব কিছুতেই এর প্রভাব প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে বাংলাদেশ কিংবা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর আবহাওয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সব চাইতে বেশী। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সহ ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র গুলো সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক সমুদ্র গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৩২ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা আর ঐ সব এলাকায় বসবাস করে মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ। ধারনা করা যায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা যদি ১ মিটার বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের মোট ভুমির ১৮% ডুবে যাবে। ফলে প্রায় ১১% শতাংশ উপকূলবাসী সহায় সম্বলহীন হয়ে উদ্বাস্তু হবে। তাদের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়বে। সুস্বাস্থ্যের প্রধান নিয়ামক নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে জন গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য তথা জীবন চক্রকেও চরমভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলবে।

আজকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৪ উদযাপনের প্রারম্ভে আমাদের জিজ্ঞাসা, কেন এই বিপর্যয় এবং এ জন্য কারা দায়ী? সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে এবং আমাদের করণীয় নির্ধারন করতে হলে এই সব বিষয়কে বিবেচনায় এনে বিশ্লেষণ করে আমাদের করণীয় নির্ধারন করতে হবে। বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব- এর পর এবং পৃথিবীর অন্যান্য ধনী দেশগুলোতে বড় বড় শিল্প স্থাপনের পরে কাঠ ও জীবাশ্ম জ্বালানীর ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন (কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন) নির্গমণ হচ্ছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে, এই কার্বন নিঃসরণ। এর প্রতিক্রিয়ার ভূমন্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে- উষ্ণতা বাড়ছে। বরফ গলছে, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে পর্বতের চূড়ায়। এই বরফ গলা পানি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। মোট কথা পৃথিবীর ধনী দেশগুলো যেমন, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালী, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানী, রাশিয়া যারা জি-৮ গোষ্ঠীভূক্ত অপরদিকে চীন, ব্রাজিল ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশও রয়েছে যাদের কারণে বায়ু মন্ডলে অনবরত কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে এবং “গ্রীন হাউস এফেক্ট” সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন

১৯৭৯ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রথম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৮০ সালে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে। ১৯৮৫ সালে আবার ভিয়েনাতে। ইতিমধ্যে এই ধারণাটি বিশ্বময় ছড়িয়ে গেছে-ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের মত গ্যাস গুলো নির্গমণে ওজন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে। এরই আলোকে ১৯৮৭ সালে উন্নত দেশের প্রতিনিধিরা কানাডার মন্ট্রিলে মিলিত হয়। ওজন স্তরের ক্ষতি ও দুরাবস্থার বিষয়টি সম্পর্কে একটি খসড়া চুক্তি পত্র তৈরী হয়। তারপর “গ্লোবাল ওয়ার্মিং” নিয়ে ব্রাজিলের রিওডিজেনেরোতে ১৯৯২ সালের জুন ৩ থেকে জুন ১৪ পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক এই জলবায়ু সম্মেলন। এই সম্মেলনে অংশ গ্রহণকারী দেশগুলো স্পষ্টতঃ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, বিপদ আসন্ন। ২০০৫ সালের মধ্যে গ্রীন হাউস গ্যাস এর পরিমান ২০ শতাংশ কমাতে হবে। কাঠ ও কয়লার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

Advertisement