শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:৩১ রাত
আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভুট্টায় ভাগ্য বদল, সৃষ্টি নতুন কর্মসংস্থান

নিউজ ডেস্ক : লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার মানুষের ভাগ্য বদল করে দিয়েছে ভুট্টা। ভুট্টার চাষ ও ব্যবসা করে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন এ জেলার মানুষ। ভুট্টা নিয়ে নেই তাদের কোনো ঝামেলা বা কষ্ট। ফসল ওঠা মাত্রই খুব সহজে কৃষকরা তা বিক্রিও করছেন। এক সময় চরে মানুষ না খেয়ে কষ্টে দিন পার করত। কিন্তু গত ২৫ বছরে চর এলাকায় দৃশ্যপট বদলে গেছে। বালুমাটিতে ভুট্টা চাষ করে বদলে গেছে তাদের ভাগ্য। গ্রামগুলোয় কুঁড়েঘরের পরিবর্তে উঠেছে আধাপাকা ঘর। লালমনিরহাটে এখন ভুট্টাই প্রধান অর্থকরী ফসল। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টা গাছ ও সবুজ পাতা উন্নতমানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন

লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলাজুড়ে সবুজ পাতায় স্বপ্ন বুনছেন ভুট্টাচাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। কম সময়ে ও ভুগর্ভ স্তরের পানি কম ব্যবহার করতে রবিশস্য আবাদের জন্য কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। তিস্তা ও ধরলাসহ ১৫টি নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই চরে গড়ে উঠেছে বসতি।

তিস্তার বুকে সবচেয়ে বেশি চর জেগেছে জেলার হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী উপজেলায়। ধরলা নদীতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ও কুলাঘাটে ৯টি চর জেগে উঠেছে। তিস্তার চরাঞ্চলে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ও ভুট্টায় পোকার আক্রমণ না থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ একটু কম হয়। ভুট্টার পর ওই জমিতে ধান ও পাট আবাদও হয়। প্রতি বিঘায় ভুট্টার ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। এ ছাড়া কমপক্ষে ২০-২৫ মণের মতো ফলন হয়। বাজারে নতুন ভুট্টার মণ ৭০০-৮০০ টাকা। গত বছর ভুট্টার ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর ভুট্টা চাষের দিকে বেশি ঝুকছেন কৃষকরা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীতে পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, গড্ডিমারী, সিন্দুর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডার, কাকিনা ইউনিয়ন, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, খুনিয়াগাছ ও রাজপুর ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় ৬৩টি জেগে ওঠা চরে প্রচুর পরিমাণে ভুট্টার চাষ হচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, তিস্তার চরাঞ্চলসহ জেলাজুড়ে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছরও কৃষক ভুট্টার ভালো দাম পাবেন। গত বন্যায় ভুট্টার ক্ষতি হলেও কৃষকরা তা পুষিয়ে নিতে বেশি জমিতে ভুট্টার চাষ করছেন। লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ জানান, লালমনিরহাট জেলাজুড়ে ব্যাপক ভুট্টা চাষ হয়েছে। বিশেষ করে নদীর চরগুলোতে ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলায় আমাদের কৃষি অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে ভুট্টাচাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

  • সর্বশেষ