শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৩ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:৩২ রাত
আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:৩২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফিরোজ আহমেদ: শাবিপ্রবির আলো গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ুুক

ফিরোজ আহমেদ: শাবিপ্রবির উপাচার্যের বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের উপর ১৫ জানুয়ারি হামলা করেছিলো ছাত্রলীগ। ভাবা যায়, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উপর পয়লা একদফা লেলিয়ে দিচ্ছেন পোষা গুণ্ডা বাহিনীকে, তারপর রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনীকে। বাংলাদেশের উপাচার্যদের এই শিক্ষাটা পেতে হবে যে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তুলে তারা নিস্তার পাবেন না। পুলিশ কিংবা ছাত্রলীগ তাদের গদি রক্ষা করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল সম্পদ তার শিক্ষার্থীরা এবং তার গবেষণা বলে যদি সেখানে কিছু থাকে, সেটা। শিক্ষার্থী আর গবেষণা কার্যক্রমের উন্নতির চেষ্টার জন্য বাকি সব কিছুকে ঢেলে সাজাতে হবে। এই কথার মাঝে অধ্যাপক সমাজের প্রতি কোনো অসম্মান নেই, বরং তেমন একটা পরিবেশ তৈরি হলেই শিক্ষকরাও তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদাটা পাবেন। বলতে বাধা নেই, যেখানে ছাত্ররা অপমানিত, লাঞ্ছিত কিংবা মানবেতর জীবন যাপন করে, সেখানে একজন অধ্যাপক আয় যতোই করুন, মর্যাদার হিসেবে তিনি বহু পিছিয়ে থাকবেন আমলা কিংবা পুলিশদের তুলনায়, এমনকি গুণ্ডাতন্ত্রেরও পাণ্ডারা কেউ কেউ তার চাইতে বেশি মর্যাদা পাবেন। কেননা তখন এই উপাচার্য কিংবা পরিষদবৃন্দের শক্তিটা সমাজের বা শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা নয়, তাদের শক্তি তখন নিছক আমলার জোরে নিয়োগ, পুলিশের জোরে শান্তি রক্ষা, গুণ্ডার জোরে দমিয়ে রাখা। এমন পরিস্থিতি তখনই তৈরি হয় যখন শিক্ষার্থীদের দমন করার মতো একটা প্রয়োজন তাদের হয়, কেননা শিক্ষার লক্ষ্য তখন জ্ঞানের উন্নতি নয়, নতুন জ্ঞান সৃজন বা গবেষক তৈরিও নয়।

খুব সত্যি যে, শক্তির এই ভারসাম্যে শিক্ষার্থীরা এখন পিছিয়ে আছে। কিন্তু তাদের মাঝে ঐক্যের বীজ যদি অঙ্কুরিত হয়, তাদের শক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না কোনো গুণ্ডাতন্ত্র, কোনো রাষ্ট্রশক্তি। ‘জাগো কাতারে কাতারে গিরিরডাঙা কাৎলাহারে/জোট বান্ধো দেখো টেকে কয়টা দুশমন/জোট বান্ধো ভাঙো হাতের শিকল ঝন ঝন/শিকল মিলায় রৌদ্রে শিশির যেমন।’ শিক্ষকের মর্যাদা সৃষ্টির জন্যই গুণ্ডাতন্ত্রের হাত থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হবে, তখন শিক্ষক আর চাষাভুষা কেউই মানুষ হিসেবে অমর্যাদার শিকার হবেন না। এই যে নতুন ধ্বনি শুনেছি শাবিপ্রবিতে, মনে হচ্ছে নতুন একটা যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। ‘আমরা সবাই সাস্টিয়ান/চাষাভুষার সন্তান।’ অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা ও সংহতি রইলো। শাবিপ্রবির আলো গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ুুক। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়