শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২২, ০৩:৪৯ দুপুর
আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০২২, ০৬:৩৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য কলহের জেরে নায়িকা শিমুকে হত্যা করেন স্বামী : পুলিশ

সুজন কৈরী : [২] চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম ওরফে শিমুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল। আর মরদেহ গুমে সহায়তা করেছেন নোবেলের বাল্যবন্ধু এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদ।

[৩] মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর আমরা শিমুর স্বামী নোবেল ও বন্ধু ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

[৪] হত্যার কারণ জানতে চাইলে জেলার পুলিশ সুপার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকায় শিমুকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোবেল। আর হত্যার পর লাশ গুমে তিনি বন্ধু ফরহাদের সহযোগিতা নেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী নোবেলের সঙ্গে শিমুর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এর জেরে গত রোববার সকাল সাতটা থেকে ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় শিমুকে খুন করা হয়।

[৫] মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সোমবার সকাল ১০ টায় স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউপির আলীপুর ব্রিজ থেকে ৩০০ গজ উত্তর পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মহিলার (বয়স অনুমান বত্রিশ বৎসর) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের সুরতহাল তথ্য প্রস্তুত করে পরিচয় শনাক্তে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং পোস্টমর্টেমের জন্য মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে নাম পরিচয় শনাক্ত হয়।

[৬] তদন্তকালে জানা যায় যে, মরদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর। তার বয়স ৪১ এবং তিনি সপরিবারে ঢাকার গ্রিন রোড এলাকায় থাকতেন। নাম পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।

[৭] পুলিশ সুপার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ চিত্রনায়িকা শিমুর বাসায় যায় এবং এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা শুরু করে। খুনিরা যদিও খুবই পরিকল্পিতভাবে মরদেহ হযরতপুরে ফেলে যান, তবে তারা কিছু চিহ্ন রেখে যান। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করি এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিম চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে রাতেই কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয়। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের ফলে চিত্রনায়িকা শিমুর স্বামী ও তার বাল্যবন্ধুর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে শিমুর সঙ্গে নোবেলের দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এই ঘটনা কেন্দ্র করে তাকে হত্যা করা হয়।

[৮] তিনি বলেন, রোববার আনুমানিক সকাল ৭-৮ টার মধ্যে খুন হন শিমু। মরদেহ গুমের চেষ্টায় যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি জব্দ করা হয়েছে এবং অন্যান্য আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কীভাবে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়টি এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বলতে পারবো। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

[৫] স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর গ্রীন রোড এলাকার একটি বাসায় থাকতেন শিমু। রোববার সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে তিনি আর ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাতেই কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন সোমবার কেরানীগঞ্জের হজরতপুর ব্রিজের কাছে আলিয়াপুর এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে শিমুর বস্তাবন্দি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

[৬] নিহত শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন রাতে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার বোনজামাই নোবেল প্রায়ই শিমুকে মারধর করতেন। তিনি মাদকাসক্ত।

[৭] নিহত শিমু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য ছিলেন। আসন্ন নির্বাচনে ১৮৪ জনের সঙ্গে তার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে স্থগিত হওয়া অন্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সরব ছিলেন।

[৮] ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয় করেন শিমু। তিনি কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। পরে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, চাষি নজরুল ইসলাম, শরিফ উদ্দিন খান দিপুসহ আরও বেশ কিছু পরিচালকের সিনেমায় কাজ করেন।

[৯] কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি টিভির মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন শিমু। নাটকেও কাজ করতেন। পাশাপাশি তার নিজের নাটক নির্মাণের প্রোডাকশন হাউজ ছিল বলে জানা যায়।

  • সর্বশেষ