শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২২, ০৭:১৭ বিকাল
আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০২২, ১২:০৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] চীনকে আটকাতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে

মাছুম বিল্লাহ: [২] চীনকে বাংলাদেশে আটকাতে ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে। ভারত এটা করতে পারলে বাংলাদেশের জন্যও ভালো হবে, কারণ চীন বাংলাদেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের দুই অর্থনীতিবিদ।

[৩] দিল্লির ইন্সটিটিউট অফ ইকোনমিক গ্রোথের প্রফেসর প্রভাকর সাহু এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর রিসার্চ অন ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক রিলেশনের ফেলো দুর্গেস কে রায় রবিবার ডেকান হেরাল্ডে এক উপ সম্পাদকীয়তে এ মন্তব্য করেন। তারা আরও বলেছেন, ভারতকে অবশ্যই বাংরাদেশের দৃশ্যমান পাবলিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক লাভের কথা বিবেচনা না করেই চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমাতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে হবে।

[৪] চীন শুধু সস্তা রপ্তানি দিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করছে না, সেখানে আগ্রাসী বিনিয়োগও করছে দাবি করে তারা লিখেছেন, বাংলাদেশ শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারই নয়, ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক দক্ষতা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় তার কৌশলগত বিনিয়োগ সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক প্রোফাইলে ভারতের প্রভাবকে ক্ষয় করেছে। বাংলাদেশ থেকে আমদানির ৯৭ শতাংশের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করছে চীন। তাই ভারতকে যদি বাংলাদেশে তার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধরে রাখতে হয়, তাহলে ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সমস্যাগুলির সমাধান করতে। যে সমস্যগুলো দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাধা হয়েছে।

[৫] ভারতের দুই অর্থনীতিবিদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ভারতের বাণিজ্য ছিল ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ২০১৮ সালে সেটি পৌঁছায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে। গত এক দশকে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি করোনা মহামারির মধ্যেও (২০২০) বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৯.৮ শতাংশ সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের সাথে এটি ছিল মাত্র ৫.৫ শতাংশ। ২০২১ সালে বাংলাদেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

[৬] তারা বলেছেন, বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ২০১০ সালে ১.৪% থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ৩.৫ শতাংশ হয়েছে। বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩.৩ শতাংশ এবং এটি ছিল বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম রপ্তানি। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশে রপ্তানি বাণিজ্য করেছে ১.৭৫ শতাংশ, যা চীনের ১৫তম বৃহত্তম রপ্তানি। ২০২০ সালে চীন বাংলাদেশে প্রায় ৩০ শতাংশ বৈশ্বিক রপ্তানি করে দেশটিতে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ হয়েছিল। ওই বছর বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ছিল ১৬ শতাংশ। ভারতের তুলনায় চীনের সাথে বাংলাদেশের একটি গুরুতর প্রতিকূল বাণিজ্য ভারসাম্য রয়েছে।

[৭] সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া (সাফটা) এর অংশ হওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই একে অপরের বাজারে শুল্ক ছাড়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পায়, তবে বেশ কিছু অশুল্ক বাধা রয়েছে। এটিই ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্কের সম্ভাবনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

[৮] দুই অর্থনীতিবিদের মতে, ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুটি সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ তুলে ধরে- প্রথমত, নতুন ভারতীয় শুল্ক বিধি, দ্বিতীয়ত, পাটজাত পণ্যসহ কিছু পণ্যে আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক। ভারতীয় কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক প্রণীত দরপত্রের ব্যাপারে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করে। সীমিত রুট, শুল্ক হয়রানি, ভিসা সমস্যা ইত্যাদির মতো অন্যান্য সমস্যাগুলির সাথে এই এনটিবিগুলি বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি করে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে হ্রাস করে। ভারতের সাথে বেনাপোল ও পেট্রাপোলে রাস্তার ধারে বাণিজ্যের চেয়ে চীন থেকে সমুদ্রপথে অবকাঠামোগত যোগাযোগ বেশি কার্যকর।

[৯] ডেকান হেরাল্ডে তারা বলেছেন, সস্তা রপ্তানি দিয়ে, আগ্রাসীভাবে বিনিয়োগ করে এবং বিভিন্ন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য লাইন অব ক্রেডিট প্রসারিত করে চীন বাংলাদেশের বাজার দখল করছে। বাংলাদেশে চীনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (চট্টগ্রাম ও মংলা) অর্থায়ন ও নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন ও বিতরণ লাইনের উন্নয়ন। চীন দৃশ্যমান জনসাধারণের অবকাঠামো যেমন পদ্মা সেতু, পয়ঃনিষ্কাশন কেন্দ্র, অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগে বিনিয়োগ করছে। এগুলি অবশ্যই চীন সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগনের একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।

  • সর্বশেষ