প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ৩৮ দিন ধরে বন্ধ বৈকুন্ঠপুর চা-বাগান : অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা

স্বপন দেব : [২] গত ৮ ডিসেম্বর থেকে হবিগঞ্জের বৈকুন্ঠপুর চা-বাগান বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩৮ দিন এই বাগানের চা-শ্রমিকদের বাগানের কাজ নেই, নেই মজুরি। ফলে ঘরে খাবার নেই, চিকিৎসা নেই। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর চা-বাগানের শ্রমিক রূপন্তি রবিদাশ এ কথা জানান। তার মতো ৪০৯টি স্থায়ী চা-শ্রমিক পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

[৩] বৈকুন্ঠপুর চা আন্দোলন কমিটির সভাপতি মনিব কর্মকার এ প্রতিবেদককে বলেন, স্থায়ী চা শ্রমিককে বাগান মালিকপক্ষ থেকে আবাসন সুবিধা দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু বাগানের স্থায়ী চা শ্রমিক দিলীপকে তা দেওয়া হয়নি। মালিকপক্ষের কালক্ষেপণ ও বাসস্থান সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে নিজের খাজনা দেয়া ফসলি জমিতে বাড়ি বানাতে ম্যানেজার ও পঞ্চায়েত কমিটি থেকে মৌখিক অনুমতি নেন তিনি। কিন্তু বাড়ি তোলার ১৫ দিনের মাথায় মালিকপক্ষ বাড়ি উচ্ছেদের নোটিশ দেয়|

[৪] তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকরা দিলীপের পক্ষে কথা বললে ১২ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়।

[৫] তার পাশাপাশি গত দেড় মাস ধরে বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের কার্যক্রম ও শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। সমস্যা সমাধানের জন্য পঞ্চায়েত কমিটি ও চা শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন কমিটি গঠন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা ২৫ দফা দাবি দেন। তাদের দাবিতে দিলীপসহ আবাসন-বঞ্চিত সব চা শ্রমিকদের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের কথা বলা হয়। এ ছাড়াও অস্থায়ী চা শ্রমিকদের স্থায়ী-করণ, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা, মজুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি দাবি তোলা করা হয়েছে।

[৬] ২০১৯ সালে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন চৌহান বলেন, ইশতেহারের ২৩ অনুচ্ছেদে স্থানীয় আবাসন সংকট নিরসনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। আজ ৩ বছর পরও সেই ২৫ দফার এক দফাও সমাধান হয়নি।

[৭] চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, শ্রমিকের বাড়ি উচ্ছেদের রেশ ধরে বন্ধ হওয়া বাগানের কার্যক্রম আবার চালু করাসহ ২৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে,

[৮]  চা বাগানের বৃদ্ধ শ্রমিকদের অনেকে ভীষণ অসুস্থ। বাগান কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে জানান শ্রমিকরা। চা-শ্রমিকদের এখন খাবার দরকার। বাগানের শ্রমিকদের খাবার কেনার সামর্থ্য নেই।
বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামসুল হক ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এক শ্রমিক কৃষি জমিতে বাড়ি তৈরি করেছেন। আমরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকবিতন্ডা হয়। চা শ্রমিকরা অফিসে হামলা করে। অফিস স্টাফকে আহত করে। বাগান কর্তৃপক্ষ জানার পর চা-বাগান বন্ধ করে দেয়।

[৯] শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডিএল) নাহিদুল ইসলাম এর মোবাইলে (০১৬৭-১৮৩৫২৪) বার বার রিং দিলেও তিনি ধরেননি। ফলে বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি জানা সম্ভব হয়নি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত