শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারী, ২০২২, ০২:৩৫ রাত
আপডেট : ০৭ জানুয়ারী, ২০২২, ০২:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: কী চায় ইসরায়েল?

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: হিটলার যে ৬০ লক্ষ ইহুদি হত্যা করেছিল তার মুল কারন ছিল ক্যাশ অর্থ। ইহুদি নেতারা খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন, ইসরাইল স্ট্যাট প্রতিষ্ঠা করলেও সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদিদের জেরুজালেমে ফেরত আনতে ব্যার্থ হচ্ছেন। যে যেখানে আছে সেখানে তাদের শেকড়বাকড় আছে, ব্যাবসা বানিজ্য আছে, এমনকি ন্যুনতম নিরাপত্তাও আছে। অন্যদিকে ইসরাইল হলো খোলা মাঠের মত বালু, পাথরে পুর্ন মরু ময়দান। কয়েক হাজার ট্যাংকের কয়েক দিনের অভিযানেই এটির সমাপ্তি ঘটবে এমন একটা বদ্ধমূল বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল সিভিল ইহুদিদের মনে। তাছাড়া এখানে আসলেই তো হবে না, তাদের আয়ের পথ তো বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে, বিরাট সংখ্যক ইহুদি কিছুতেই তাদের প্রমিজড ল্যান্ডে ফিরতে রাজি হয়নি। এত সবের মধ্যেও এক জাহাজ ভর্তি ইহুদিকে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় জোড় করে জাহাজে তুলে এনেছিল ইসরাইলের নেতারা। জাহাজ হাইফাতে ভিড়লেও ইমিগ্র‍্যান্ট ইহুদিরা কেউই জাহাজ ছেড়ে নামতে রাজি হয়নি। ফলে তাদের কপালে নেমে আসে নির্মম নিয়তি। অজ্ঞাত বোমা হামলায় জাহাজটি রাতের আধারে ডুবে যায়, বাচেনি একজনও।

তারপর ? ইহুদিরা জানতো হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর পরাজয়কে ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেন। তারা হিটলারকে তার ভাবনা বিশ্বাস অনুযায়ী চলতে দিলেন। বাট মাস কিলিং অব সিভিলিয়ানস থিউরিকে হিটলার সমর্থন করতেন বলে মনে হয়না। কারন আমৃত্যু তার ব্যাক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন একজন ইহুদি ডাক্তার। ধরে নেই তিনি বাস্তবতা মেনে নিয়েছিলেন। টাকায় কি না হয় !! হিটলারের চারপাশ ঘেরা ছিল ইহুদি বিদ্বেষীদের দ্বারা। তারা টাকার গুরুত্বকে বাস্তবতা বলে বুঝিয়েছিলেন হের হিটলারকে। তারপর জার্মানী শুরু করে ইহুদি নিধন যা পশ্চিমা গনমাধ্যমগুলো এমন কাভারেজ দেয় যেন প্রতিটা ইহুদি এটা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয় যে তাদের ইসরাইলেই ফিরে যাওয়া উচিত। এ কথাগুলো সত্য হলে এটা নিশ্চিত যে, ইহুদিরা সো স্মার্ট। তারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর সাথে সত্যিই বেঈমানি করেছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সে ঘটনার মারাত্মক প্রভাব ঠেকানো যাবে না বলেই তারা আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছিল। আবার অন্যদিকে ইহুদিরা ইচ্ছে করেই আমেরিকা এবং ভারতের মিজোরামে একটা একটা বেইজ স্ট্যাট স্থাপন করে রেখেছে। এ দুই দেশে থাকা ইহুদিদের তারা কখনো সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছে বলে শুনিনি। কখনো যদি ইসরাইল ইরানী বোমায় উড়েও যায়, তবু ইহুদিরা ঠিকই টিকে যাবে এবং পরের দুই হাজার বছর অপেক্ষা করে হলেও শোধ নেবে।

আজকের ২০২২ এর মিজোরামে ইহুদি বেড়েছে। এটা ১৯৪৮ সাল নয় মনে রাখতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে ইসরাইল চাইছে কিছু স্পেশাল হ্যান্ডকে এদিকে সম্প্রাসারিত করতে। সমস্যা হচ্ছে ভুমি সংকট। ভুমি পাই কই ? ভারত সব দেবে, আজীবন গোলাম হয়ে থাকবে কিন্তু বাড়তি ভুমি দেবেনা কোনো ইহুদিকে, এটা ইসরাইল জানে। ভারত কাউকেই কিছু দিবে না। ইহুদিরা তাই স্থান স্পটেড করেছে। এবং সেই ১৯৭২ সাল থেকেই তারা তাদের প্রত্যাশিত সেই জমিতে রাইফেল ঢুকিয়েছে আমাদের স্বামী বাহিনীর হাত দিয়ে....। তারা আসছে। আর সন্তু'রা অকারনে কানার মত রাইফেল চালাচ্ছে।
ভুমি যার মহিষ তার- বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের একটা বিখ্যাত উক্তি মনে করিয়ে দিলাম।

*** পুরো থিমটা নেয়া হয়েছে দুরবীন থেকে। এর বাস্তবতা বা সত্যটা কতটুকু তা সময়ই বলে দেবে। ম্যাপে দেখতে পাচ্ছেন গাজা, হাইফা, বৈরুত, ত্রিপলি সেম কোস্টাল লাইনে থাকা প্রাচীন সব বন্দর। এই মুহুর্তে হাইফা ছাড়া আর কোনটা পরিপুর্ন সচল আছে কেউ জানেন ?

ডা. জাকারিয়া চৌধুরী: ডেন্টাল সার্জন, কলাম লেখক

  • সর্বশেষ