শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৬:৪০ বিকাল
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৬:৪০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] ভূয়া রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা, আটক ২

সুজন কৈরী : [২] রাজধানীর বারিধারা থেকে বুধবার রাতে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির নাম ব্যবহার করে ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি অফিস খুলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুই জনকে আটক করেছে র‌্যাব।

[৩] আটকরা হলেন-মো. সুজন শেখ ও মো. আমিনুল ইসলাম রনি। তাদের কাছ থেকে ১৩৮টি পাসপোর্ট, তিনটি মোবাইল ফোন, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।

[৪] র‌্যাব জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক ভিসায় লোক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শতশত মানুষকে প্রতারিত করেছে একটি চক্র। তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তারা প্রথমে এক থেকে দুই লাখ টাকা নিতো। বাকি টাকা বিদেশে পৌঁছোনোর আগে ব্যাংক থেকে লোন করে দেওয়া হবে বলে প্রলোভন দেখানো হতো। যা পুরোটাই মিথ্যা বানোয়াট ও ভূয়া। এরপর ভুয়া বিমান টিকিট, ভিসা ও করোনার ভ্যাকসিন কার্ড তৈরি করতো। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারতেন বিদেশ গমনেচ্ছুকরা। পরে ভুক্তভোগীর অফিসে গিয়ে দেখতেন চক্রটি অফিস বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

[৫] বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, প্রবাসে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাকে পুঁজি করে সংঘবদ্ধ চক্র বিদেশে কর্মসংস্থানের আশ্বাসে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। এমন অভিযোগে গতরাতে দুইজনকে আটক করা হয়।

[৬] কমান্ডার মঈন জানান, আটকরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। সুজন শেখ এই দলের মূলহোতা এবং আমিনুল তার অন্যতম সহযোগী। দীর্ঘ দুইবছর ধরে তারা এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। চক্রে ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া, ময়মনসিংহ, মাগুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। চক্রটি বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রায় তিন শতাধিক মানুষকে প্রতারিত করেছে। তারা সাধারণত গার্মেন্টস, কারখানা, ড্রাইভার, সিএনজি চালক, গৃহকর্মী এসব শ্রেণির কর্মজীবীদের টার্গেট করতো। বিদেশে গেলে দেশে উপার্জনের চেয়ে দুই-তিনগুন বেতন বেশি বলে আশ্বস্ত করতো।

[৭] এছাড়া স্বল্প খরচে ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ১৫দিনের মধ্যে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখাতো। চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আড়াই থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ হবে ভুক্তভোগীদের জানাতো। যেতে রাজি হলে প্রথমে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া হতো। বাকি টাকা ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিতো। এতে সকলে প্রলুব্ধ হতো। নগদ যেই টাকা নেওয়া হতো তা নিয়ে পরবর্তীতে অফিস পরিবর্তন করে ফেলতো। এভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

[৮] র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি সাবলেটে বিভিন্ন জায়গায় অফিস ভাড়া নিতো। ফলে অফিস ভাড়া কম হওয়ার পাশাপাশি সহজেই অফিস পরিবর্তন করতে পারতো চক্রটি। তারা প্রবাসী কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বা বায়রার ওয়েব সাইট দেখে বিভিন্ন অনুমোদিত রিক্রুটিং কোম্পানির নাম ব্যবহার করতো। ওইসব কোম্পানির নামে ভিজিটিং কার্ড, স্টাম্প ও অন্যান্য নথিপত্র বিদেশে গমনেচ্ছুকদের দেখিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতো।

[৯] র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুজন জানিয়েছেন, তিনি ১৫ বছর ধরে রাজধানীর গুলশান, বনানী, মালিবাগ, কাকরাইলে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেছেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার কৌশল নেন।

[১০] গ্রেপ্তার আমিনুল ২০০১-২০১৫ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ছিলেন। তার প্রবাস জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এতে তার কথাবার্তায় সাধারণ মানুষ সহজেই আকৃষ্ট হতো এবং পরবর্তীতে প্রতারিত হতো।

  • সর্বশেষ