প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বামী বদলানো যায় কিন্তু প্রতিবেশী না: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

মিনহাজুল আবেদীন: [২] বৃহস্পতিবার (০৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘মৈত্রীর বন্ধনে সুবর্ণ সম্প্রীতি’ আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবিসি টিভি

[৩] মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত আমাদের এমন প্রতিবেশী, যেখানে আমাদের একদিকে বঙ্গোপসাগর আর তিন দিকে ভারত। ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত নানাভাবে আমাদের পাশে ছিলো। সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আমাদের দেশের একটি পক্ষ আছে, যারা ভারতের নাম শুনলেই শত্রু মনে করে। একাত্তর সালে শত্রু মনে করেছে। এখনো শত্রু মনে করে।’ আজকের পত্রিকা

[৪] মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান সম্পর্কে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভারত আমাদের ১ কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমাদের ট্রেনিং দিয়েছে। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। শুধু তা-ই নয়, আমাদের জাতির পিতার মুক্তির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে থেকে যে সহযোগিতা করেছে, সেগুলো মনে রাখতে হবে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের পরে যারা দেশের ক্ষমতায় এসেছে, তারা নানাভাবে ভারতের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে। ভারতের এত অবদান তারা ভুলে গিয়েছে। তারা কখনো বন্ধু হিসেবে মেনে নেয়নি। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারাই ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে।’

[৫] মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সঠিক ইতিহাস, যা সত্য তা উপলব্ধি করতে হবে। কে বন্ধু কে শত্রু, তা যথাযথভাবে অনুধাবন করতে হবে। আমরা যদি কৃতজ্ঞ হই, তাহলে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী থাকা উচিত। সেটি যেমন প্রতিবেশী হিসেবে, তেমনই একাত্তরে ভারত যে ভূমিকা পালন করেছে তার জন্যও। আমাদের দুই দেশের মধ্যকার বন্ধন লৌকিক বা মৌখিক নয়; আন্তরিক ও বাস্তবসম্মত। যারা স্বাধীনতা মানেনি, এখনো যাদের চিন্তা-চেতনায় সেই ধারাবাহিকতায় দেশবিরোধিতা রয়ে গেছে, তারা নানা মিথ্যাচার করে অপপ্রচার করে বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে চায়। তাদের প্রতি সতর্ক থাকার জন্য “সম্প্রীতি বাংলাদেশ” গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ দেশ রূপান্তর

[৬] বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনমত সৃষ্টি করেছেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কখনোই বলেন নাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেওয়া হোক। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করা হোক। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সেই সময়ে অনেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, আপনি বাংলাদেশের আন্দোলন উসকে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, আমরা কিছুই করিনি। আমরা বিপদে পড়া মানুষদের সহযোগিতা করছি। তাদের আন্দোলন তারাই করছে।’

[৭] মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘যুদ্ধের সময়ে ভারত বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। তাদের সহযোগিতা আমরা ভুলব না। এমনকি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের হয়ে ভারত গ্যারান্টার থাকত। ভারত জামিনদার হয়ে পণ্য আমদানিতে সহযোগিতা করেছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ রেখে গেছেন, কিন্তু ১৯৭৫ সালে জিয়া আসার পরে সেই প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।’

[৮] ৭৫-পরবর্তী শাসনামলে এ দেশকে মিনি পাকিস্তান বানাতে চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের সেই সময়ে পড়াশোনা কম ছিল। তারা এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে ব্যবহার করা হয়েছে।’

[৯] আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী, সংসদ সদ্য অরমা দত্ত, শহীদজায়া শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত