প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বন্ড সুবিধার অপব্যবহার: নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা

সুজন কৈরী: [২] বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে পণ্য খোলা বাজারে কেনা-বেচায় জড়িত রাজধানীর লালবাগের নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ২৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

[৩] এর আগে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম তদন্ত করে ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করে। একইসাথে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি সংক্রান্তে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা।

[৪] মেসার্স নাহিদ এন্টারপ্রাইজ লালবাগের বকশি বাজারের উমেশ দত্ত অবস্থিত। এর নিবন্ধন নম্বর- ০০০৩৮১০৯২-০২০৪। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী জনাব আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন।

[৫] ভ্যাট গোয়েন্দা জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা দপ্তরের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে অনুসন্ধানের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি চেয়ে কয়েকবার চিঠি দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি দলিলাদি না পাঠিয়ে বারবার সময়ে চেয়ে কালক্ষেপণ করে। প্রতিষ্ঠানটি দলিলাদি দাখিল করে তদন্ত কাজে সহযোগিতা না করায় প্রতিষ্ঠানটিতে চলতি বছরের ১৭জুন ভ্যাট গোয়ন্দা দপ্তরের উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে নিবারক কার্যক্রম চালিয়ে ভ্যাট সংক্রান্ত বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করা হয়।

[৬] অনুসন্ধানে দেখা যায়, নাহিদ এন্টারপ্রাইজ অন্যান্য বন্ডেড প্রতিষ্ঠান থেকেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত ছিলো। ফলে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি সংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে অনুসন্ধান টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

[৭] প্রতিষ্ঠানে ভ্যাট গোয়েন্দার অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূসক-৬.৩ চালান ছাড়া সেবা প্রদান করে যথাযথ রাজস্ব পরিশোধ না করে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য অন্যত্র গোপন দলিলে সংরক্ষণ করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে।

[৮] তদন্ত মেয়াদে ২০১৬ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত প্রায় ৫ বছর প্রতিষ্ঠানটি দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য প্রদর্শন করেছে ২৯১ কোটি ৮৯ লাখ ৬৬ টাকা। কিন্তু জব্দ দলিলাদির ভিত্তিতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ১৫৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার ২২টাকা। যার মধ্যে মূসক আরোপযোগ্য বিক্রয়মূল্য ছিলো ১৩৩৯ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার ১৯ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ১০৪৭, কোটি ৪৭ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৪টাকার প্রকৃত বিক্রয়মূল্য গোপন করেছে। বিক্রয়মূল্য কম প্রদর্শন করায় অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১৫৭ কোটি ১২ লাখ ৭ হাজার ৯৯৩ টাকা উদঘাটন করা হয়। যার উপর মাস ভিত্তিক ২ শতাংশ হারে ১১৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৪ হাজার ২৪২টাকা সুদসহ মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ২৭৫ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ২৩৫টাকা।

[৯] প্রতিষ্ঠানটি ৫ বছরে দাখিলপত্রের মাধ্যমে মোট ভ্যাট পরিশোধ করেছে ৪৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩৫ হাজার ১০টাকা। কিন্তু ভ্যাট গোয়েন্দার তদন্তে একই সময়ে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ পাওয়া যায় ১৫৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি হওয়ায় স্পষ্ট হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি নানা ধরণের অবৈধ লেনদেনের সাথে জড়িত।

[১০] তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানের দুটি ব্যাংক এ্যাকাউন্টে মোট ১৫৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬৩ হাজার ২২টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। অবৈধ বন্ডেড পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ এইসব লেনদেনে সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্র্রতিষ্ঠানের নামে প্রাইম ব্যাংকের মৌলভিবাজার শাখা ও উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখায় দুটি ব্যাংক এ্যাকাউন্ট রয়েছে।

[১১] বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের পণ্য যথাযথভাবে ঘোষণা না দিয়ে খোলাবাজারে ক্রয়-বিক্রয় করা ভ্যাট ও কাস্টমস আইন অনুযায়ী অপরাধ। ভ্যাট আইনের পাশাপাশি কাস্টমস আইনের অপরাধ যথাযথভাবে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এখতিয়ার সম্পন্ন হওয়ায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

[১২] অন্যদিকে ভ্যাট গোয়েন্দার অনুসন্ধানে প্রাপ্ত ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগটি আরও গভীরভাবে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলকে (সিআইসি) অনুরোধ করা হয়েছে।

[১৩] তদন্তে উদঘাটিত পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে মামলাটি সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও মনিটরিং করার জন্যও সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা বন্ড কমিশনারকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত