প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস: জয়তু বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব

এ বি এম কামরুল হাসান: বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ঐতিহ্যগতভাবে। ভৌগোলিক কারণে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার অনেকের আত্মীয়-স্বজন ভারতে। আবার ভারতেরও অনেকের আত্মীয়-স্বজন এদেশে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। ভারত এক কোটি শরণার্থীকে সেদেশে আশ্রয়দানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ছিলো অতুলনীয়, প্রত্যক্ষ, ঘনিষ্ঠ ও গভীর। ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্ব নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন বাংলাদেশের গণহত্যা পরিস্থিতি তাঁদের বোঝানোর জন্য, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের জন্য।

মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারতের রাষ্ট্রপতিকে একটি চিঠি দেন ২৪ এপ্রিল ১৯৭১ সালে। সৈয়দ নজরুল চিঠিতে লিখেন, ‘বাংলাদেশের এবং ভারতের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ জনগণের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য মহামান্য সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং দূত বিনিময় করতে পেরে খুশি হবে।’ ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ তারিখে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ অনুরূপ আরেকটি চিঠি দেন ভারতের তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে। অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১।

ইন্দিরা গান্ধী ভারতের পার্লামেন্টে ঘোষণা দেন, ‘আমি সংসদকে জানাতে পেরে আনন্দিত যে বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে ভারত সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ পাশাপাশি শ্রীমতি গান্ধী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার সহকর্মীরা এবং আমি ৪ ডিসেম্বর মহামান্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং আপনি আমাকে যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তা দ্বারা গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছি। বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার আলোকে ভারত সরকার এই স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করার যে আহ্বান মুজিবনগর সরকার জানিয়েছিলো তার উত্তর মেলে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে, স্বাধীন দেশের স্বীকৃতির মাধ্যমে । আরও আগে দিনটিকে দুদেশের মধ্যে ‘বন্ধু দিবস’ বা ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। দেরিতে হলেও দুদেশের নেতারা আজ বুঝেছেন, বেটার লেট দ্যান নেভার। ভ্রাতৃপ্রতিম দু’ প্রতিবেশীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে অনেক সংকট সমাধান সম্ভব। শ্রীমতি গান্ধী সেদিন পার্লামেন্টের ভাষণেও এমনটাই বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অহস্তক্ষেপ, সমতার নীতির ভিত্তিতে একটি সম্পর্ক গড়ে তুলবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য একসঙ্গে কাজ করে আমরা ভালো প্রতিবেশীতার উদাহরণ স্থাপন করব যা একাই এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারে।’

এ বছরের ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে দুদেশের মধ্যে মৈত্রী দিবস পালনে একটি স্মারক সই হয়। অতিমারির কারণে সমঝোতাটি বেশিদূর এগোয়নি। সেপ্টেম্বরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ দিল্লি গেলে দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রেক্ষিতে এ বছর থেকেই দিবসটি যৌথভাবে পালনে সমঝোতা হয়। বন্ধু রাষ্ট্র দুটির মধ্যে বন্ধু দিবস পালনের শুরুতে তিস্তা সংকটসহ অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে বন্ধুরা আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবে বলে সবাই আশা করে। যেমনটি শ্রীমতি গান্ধী সমতার নীতির ভিত্তিতে ভালো প্রতিবেশীটার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। জয়তু ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব।

লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত