প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। কুয়েটের EEE ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেন। দুপুরবেলা নিজের বাসায় যাচ্ছেন। পথে তাঁরই হলের ৪০-৪৫ জন আবাসিক কুছাত্র তার পথ আটকায় এবং বাকবিতন্ডায় জড়াতে বাধ্য করে। তারা সেই শিক্ষককে আবার তাঁর অফিসে ফিরিয়ে নিয়ে আসে এবং রুমে প্রবেশের পরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাঁকে চরম মাত্রায় লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা হয় বলে শুনেছি। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখেছি।

ছাত্রলীগের ছেলেরা রুম থেকে বেরিয়ে গেলে তিনি চুপচাপ বাসায় ফিরে যান এবং বাসায় ফিরে টয়লেটে যান এবং সেখানেই কিছুক্ষণ পরই হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। শুনেছি গত বেশ কয়েকদিন ধরেই কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান ও তার অনুসারীবৃন্দ হলের ডাইনিং ও অন্য বেশকিছু ইস্যুতে ড. সেলিমের সঙ্গে বাকবিন্ডায় জড়িয়ে আসছিলেন। হলের ডাইনিংয়ের দখল, টেন্ডারসহ অর্থনৈতিক বেশ কিছু ইস্যুতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একক লুটপাটের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সকলের প্রিয় ও সজ্জন হিসেবে পুরো ক্যাম্পাসে পরিচিত EEE ডিপার্টমেন্টের ড. সেলিম।

এই মৃত্যুর জন্য কে দায়ী? ছাত্রলীগের এই ছেলেরা? নাকি এই ছাত্রদের রাজনীতির নামে যারা এমন বানিয়েছে তারা? পৃথিবীর এমন আরেকটি দেশের নাম বলুন তো যেখানে ছাত্ররা এতো অমানবিক অমানুষ হয়? এই ঘটনার কোনো বিচার কি আপনি আশা করেন? একদিনে তো তারা এমন হয়ে যায়নি। আশকারা পেতে পেতে তারা এমন হয়েছে। বুয়েটে আবরার হত্যায়ও দেখেছি এমন অমানবিক ছাত্রদের। বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে মেধাবী হিসেবে প্রমাণ সাপেক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। তাদের যারা অমানুষ বানায় তাদের বিচার কি কখনো হবে? যেই বয়সে জ্ঞানার্জনে দিনরাত ব্যস্ত থাকবে সেই বয়সে ডাইনিং থেকে কিছু টাকাপয়সা মারার ধান্দা করে। তাদের এমন তুচ্ছ চিন্তায় অভ্যস্ত কারা করে? টেলেন্টসের এমন মাস স্কেল অপচয় পৃথিবীর আর কোথাও হয়?
লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত