প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতে পায়ের বিশেষ যত্ন

নিউজ ডেস্ক: শীতে পায়ের বিশেষ যত্ন না নিলে প্রথমেই পা ফাটতে শুরু করে। এছাড়াও পায়ের নখে ফাংগাল ইনফেকশনও দেখা যায়। ফলে পা থেকে সহজেই দুর্গন্ধ বেরোনোর প্রবণতা থাকে। তাই শীতে পায়ের বাড়তি যত্ন নেয়া অত্যাবশকীয় জরুরী।

শরীরের অন্যান্য অংশের থেকে পা জোড়ার দিকেই আমরা খুব কম নজর দেই। অনেকেই আবার মুখ ও সারা শরীরের ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে পায়ের যত্ন নেয়ার কথা ভুলে যান। কিন্তু মুখ ও শরীরের মতো পায়ের যত্ন নেয়া খুব প্রয়োজন। কারণ শীতের শুষ্কতার প্রভাবে আমাদের ত্বক খুব নাজুক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শীতের সময় বিশেষ যত্ন না নিলে প্রথমেই পা ফাটতে শুরু করে। পুরো শরীরের মধ্যে পায়ের তলাটাই সবচেয়ে বেশি শুষ্ক। কেননা দেহের অন্যত্র ত্বকের মাঝে তৈল গ্রন্থি থাকলেও পায়ের তালুতে তা নেই। কেবল আছে ঘর্মগ্রন্থী। যার ফলে পা শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বক ফেটে যায়। এছাড়াও পায়ের নখে ফাংগাল ইনফেকশনও দেখা যায়। ফলে পা থেকে সহজেই দুর্গন্ধ বেরোনোর প্রবণতা থাকে। তাই শীতে পদযুগলকে সুস্থ এবং সুন্দর রাখতে অবশ্যই পায়ের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। চলুন জেনে নিই পায়ের বাড়তি যত্নে করণীয়-

মধু আপনার পায়ের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে। একটি বালতির অর্ধেক পরিমান গরম পানিতে ১ কাপ মধু মেশান। প্রায় ১৫-২০ মিনিটের জন্য আপনার পা ঐ পানিতে ডুবিয়ে রাখুন। এবার পা পানি থেকে তুলে শুকিয়ে মোজা পরে নিন। নরম ও নমনীয় পায়ের জন্য এটা খুব ভালো কাজ করবে।

পায়ের স্ক্রাবিং এর জন্য অত্যন্ত উপকারী একটা উপাদান হলো চালের গুড়া। স্ক্রাবিং পেস্ট করতে একটি বাটিতে ৩-৬ টেবিল চামচ চালের গুড়া নিন। এর সাথে মধু এবং আপেল কুড়িয়ে তা কয়েক চামচ যোগ করুন। এ স্ক্রাবিং পেস্ট দিয়ে আপনার পা ভালো করে স্ক্রাবিং করে নিন। এরপর ১০মিনিটের জন্য গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখুন এবং দেখবেন কিভাবে আস্তে আস্তে আপনার পা থেকে মৃত ত্বক পরিষ্কার হচ্ছে।

ত্বক মসৃণ, নরম ও সুস্থ রাখতে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট প্রাকৃতিক উপাদান হলো অলিভ ওয়েল। একটি ছোট বোতলে জলপাই তেলের মধ্যে লেবুর তেল বা ল্যাভেন্ডার তেল কয়েক ড্রপ নিয়ে যোগ করুন। এই উপাদান দিয়ে ভালো ফল পেতে তা সঠিকভাবে মিশ্রিত করুন। এবার একটি তুলো বল করে তার সাহায্যে মিশ্রণটি আলতো করে ১০-১৫ মিনিটের জন্য বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আপনার পায়ে ম্যাসেজ করুন। এরপর পায়ে একজোড়া মোজা পরে নিন এবং একটি ঘন্টা পর তা খুলে ফেলুন। এবং পায়ের ত্বক মসৃণ রাখতে অবশ্যই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। বিশেষ করে পা ফাটা এড়াতে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

বেসনের সঙ্গে মধু, হলুদ বাটা, অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে পায়ে ও গোড়ালিতে লাগাবেন। ২০ মিনিট পর হালকা হাতে ঘষে তুলে ফেলুন।

ফাটা গোড়ালি নিরাময়ে নারিকেল তেল ও পেঁপের মিশ্রণ ফাটা গোড়ালিতে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। এরপর ধুয়ে ফেলুন।

এছাড়া পদযুগল কে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সঠিকভাবে মোজা পরতে হবে। এবং অবশ্যই পরিষ্কার মোজা পরতে হবে। শীতকালে পা গরম রাখতে মোটা কাপড়ের মোজা পরতে পারেন।

সঠিক জুতা পরিধান করতে হবে। পায়ে কষ্ট দেয় বা খুব জোরে চেপে রাখে এমন জুতা পরা এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া জুতার ভিতর সবসময়ই পরিষ্কার রাখতে হবে।

পায়ে যদি ফাংগাল ইনফেকশন হয়ে থাকে তবে টি ট্রি তেল ব্যবহার করুন। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নখে টি ট্রি তেল তুলো দিয়ে লাগাতে হবে। একই পদ্ধতিতে ওরিগ্যানো তেল তুলো দিয়ে পায়ে লাগাতে পারেন। যেই নখে ফাংগাল ইনফেকশন হয়েছে সেখানেই লাগান।

সপ্তাহে ২ বার খুব হালকা কুসুম গরম পানিতে চার টেবিল চামচ পুদিনার রস মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে তার সঙ্গে ফাটা গোড়ালির সমস্যাও দূর হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত