শিরোনাম

প্রকাশিত : ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ০৭:০৪ সকাল
আপডেট : ৩০ নভেম্বর, ২০২১, ০৭:০৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ বিআরটিএ ঘেরাও করবে শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক: পরিবহনে হাফ ভাড়াসহ নয় দফা দাবি আদায়ে আজ শিক্ষার্থীরা সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয় ঘেরাও করবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নয় দফা দাবি আদায়ে গত বৃহস্পতিবার তারা সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে। কিন্তু দাবি মেনে না নেওয়ার কারণে আজ মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে শিক্ষার্থীরা বিআরটিএ কার্যালয় ঘেরাও করবেন। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা কোনো ধরনের ভাঙচুর করার জন্য সড়কে নামেননি। ২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় ৯ দফা দাবি তুলেছিলেন তারা। সরকার বলেছিল, দাবিগুলো মানা হয়েছে। কিন্তু একটি দফাও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে সোমবারও (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর নীলক্ষেত ও শান্তিনগর এলাকার সড়কে ‘হাফ পাস’ (অর্ধেক ভাড়া) এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রাজধানীর তিন কলেজের শিক্ষার্থীরা। শান্তিনগরে দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় শতাধিক শিক্ষার্থী শুরুতে শান্তিনগর মোড় অবরোধ করেন। পরবর্তী সময়ে তারা মিছিল নিয়ে কাকরাইল মোড় হয়ে আবার শান্তিনগর এসে অবস্থান নেন। এর পরে বেলা পৌনে ২টার দিকে তাঁরা সড়ক থেকে সরে যান।

শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবি হচ্ছে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমসহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সব শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সব যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নৌ ও রেলপথে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। বৈধ-অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ’র সব কার্যক্রমে নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয় আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন সুনিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহণে নারীর প্রতি যৌন হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ এবং এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী শনির আখড়া থেকে কলেজে আসার পথে অর্ধেক ভাড়া দিতে চাইলে বাসের হেলপার তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পরের দিন রবিবার বকশী বাজার এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরাও।

পরে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। এর মধ্যেই গত বুধবার গুলিস্তান এলাকায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় হত্যার শিকার হয় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী। এরপর শিক্ষার্থী ‘হাফ পাসে’র পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবিতেও আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১৮ সালে টানা কয়েকদিন সড়ক অবরোধের পর তাদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তারা আন্দোলন স্থগিত করে। এবারে আন্দোলনে নেমে শিক্ষার্থীরা বলছে, বড়রা আমাদের অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আমরা তাদের ওপর আস্থা রেখে রাজপথ ছেড়েছিলাম। বড়রা বলুন, আপনারা কি আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রেখেছেন?

শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

একই দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় ও শান্তিনগর মোড় অবরোধ করেছে কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় শাহবাগ এলাকায় অবস্থান নেয় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতারা। সোমবার বেলা ১২টা থেকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এ অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চলমান রাখবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিন বেলা ১২ টার কিছু আগে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে বিক্ষোভ শুরু করে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ কলেজের শিক্ষার্থীরা। আধঘণ্টা পর তারা সেখান থেকে সরে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিআরটিএ ভবনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। যদি তারা অফিস টাইমের ভেতরে প্রজ্ঞাপন জারি না করে, তবে সেখানে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে সকলকে জানিয়ে দেব। এদিকে, তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি করতে গিয়ে পুলিশি বাঁধার মুখে পড়েছে প্রগতিশীল আটটি ছাত্র সংগঠন। দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ অবরোধের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শাহবাগের দিকে গেলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশ শুরু করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে-ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, ছাত্র ফেডারেশন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ এবং বিপ্লব ছাত্র-যুব আন্দোলন। বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায়,বাংলাদেশ ছাত্র ফেড়ারেশনের সভাপতি মিতু সরকার প্রমুখ।

শাহবাগ থানার ওসি কামরুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ৮টি বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করতে এলে আমরা তাদের বাধা দিই। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আটকে রাখার সুযোগ নেই। পরে তারা জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করে।

- ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়