প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ওমিক্রন’ কি সত্যিই ভয়ংকর হয়ে উঠবে?

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া নতুন ধরন নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছিল। গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ধরনটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা উদ্বেগজনক হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে। বি.১.১.৫২৯ ধরনটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ওমিক্রন।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মিউটেট করেছে ৫০ বার। এর স্পাইক প্রোটিন বদলেছে ৩০ বার। মানুষের দেহের মধ্যে ঢুকতে কোভিড ভাইরাস এই স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে। আর করোনার টিকা সাধারণত এই স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়।

ভাইরাসের যে অংশটি প্রথম মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটায় তার নাম রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইনে মিউটেশন ঘটিয়েছে ১০ বার। সেই তুলনায় করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টে এই পরিবর্তন হয়েছে মাত্র দুই বার।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ধরনের মিউটেশন সম্ভবত রোগীর দেহের জীবাণু থেকে এসেছে, যিনি এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলেন, এই ভাইরাসটির সংক্রমণের ক্ষমতা শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করার কিছু ক্ষমতাও সম্ভবত এর রয়েছে। কোভিডের অনেক ভ্যারিয়েন্ট গবেষণাগারে বিপজ্জনক বলে মনে হলেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ওমিক্রনের সংক্রমণ ততোটা গুরুতর নয়। এর ফলে স্বাদ বা গন্ধ হারায় না। সামান্য কাশি হয়। এক থেকে দুই দিন ক্লান্তি থাকে। এর বেশি কিছু নয়। আর টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের এই ধরনের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ দিকে ভারতে শনাক্ত হওয়া ডেলটা রূপ বিশ্বের ১৬৩ দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত বেশ কয়েক কোটি মানুষ। দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী ছিল এই রূপ। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ওমিক্রনের পক্ষে ডেলটার পরিসংখ্যানকে ছোঁয়ার পূর্বাভাস নেই। কেবল মানবদেহের সহজাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নয়। ওমিক্রনকে লড়াই করতে হবে করোনা টিকার প্রতিরোধের বিরুদ্ধেও। ডেলটা ধরনের সংক্রমণের সময় বিশ্ব জুড়ে টিকাকরণের সংখ্যা ছিল অনেক কম। এখন টিকাকরণ অনেকটাই এগিয়েছে। ফলে ওমিক্রনের পরীক্ষা আরো কঠিন।

এছাড়া গত এক বছরে টিকা সংক্রান্ত গবেষণাও এগিয়েছে অনেকটা। ফাইজার ও বায়োএনটেকের মতো সংস্থা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, করোনা ভাইরাসের নয়া রূপ প্রতিরোধী টিকা তৈরির কাজ ৬ সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। ১০০ দিনের মধ্যেই আসবে নতুন টিকা। সব মিলিয়ে এক বছর আগে ডেলটার ঢেউয়ের মোকাবিলার জন্য বিশ্ব যতটা প্রস্তুত ছিল, ওমিক্রন প্রতিরোধে প্রস্তুতি তার চেয়ে বেশি। আবার ডব্লিউএইচও দ্রুত উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন। যদিও এরও কারণ আছে। কারণ ডেলটা পাওয়ার পর ডব্লিউএইচও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিল। ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত