প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: তথ্যমন্ত্রীর বিশ্লেষণ, অসুস্থতা নিয়ে অসুস্থ রাজনীতি এবং মিথ্যাচারে অধ:পতন দলটির

দীপক চৌধুরী: রাজনীতি, গণতন্ত্র আর নির্বাচনি ব্যবস্থা নষ্ট করার জন্য একমাত্র দায়ী বিএনপি যখন গণতন্ত্রের কথা বা নির্বাচনের ইস্যু নিয়ে কথা বলে তখন হাসতেই হয়। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যাকারী বিএনপি-জাতীয় পার্টি। ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ যে, জঘন্য সংস্কৃতি ও হত্যার রাজনীতির প্রবর্তক দলটি। শুধু তাই নয়, তারা গুজবের ক্ষেত্রেও শীর্ষে। এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে খালেদা জিয়ার শারিরিক অবস্থা নিয়ে।

এটা ইতিহাসের একমাত্র সত্যি, একবিন্দুও মিথ্যে নয়। কারণ, এদের আমলে রাজনীতিকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তাদের উপহার ছিলো, নির্বাচনি প্রচার গাড়িতে ভাংচুর করা, ধানক্ষেতে প্রতিপক্ষের লাশ ফেলে দেওয়া। এসব ছিল বিএনপি-জাতীয়পার্টির রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। ক্ষমতায় পা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত সরকার কী নিষ্ঠুরভাবে প্রতিপক্ষকে হত্যা করেছে ইতিহাসে লেখা আছে সেসব কীর্তি। জিয়াউর রহমান সবচেয়ে সহজ পণ্য করেছিলেন মানুষকে। মানুষ কেনা কোনো সমস্যই ছিল না তাঁর কাছে। মানুষদের মধ্যে রাজনীতিবিদ আর বুদ্ধিজীবী কেনার জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন “ঘুষঅস্ত্র না হয় বন্দুকঅস্ত্র”। সেটি ব্যবহার করেছিলেন স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও। মিথ্যাচার ও আক্রোশের অস্ত্র তৈরি করেছিল বিএনপি-জাতীয় পার্টি। এজন্যই আজ তাদের অধঃপতন।
অত্যন্ত চমৎকার কথা বলেছেন আধুনিক চিন্তার রাজনীতিক ড. হাছান মাহমুদ। সত্যিকার অর্থেই মানুষের প্রাণের কথা। বিএনপিকে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসুস্থ রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সম্প্রতি বিএনপির উদ্দেশ্যে এই সুদক্ষ ও মেধাবী রাজনীতিক বলেন, ‘ বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসুস্থ রাজনীতি করবেন না। বেগম জিয়াকে অসুস্থ রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টায় তাঁর প্রতি অসম্মান জানানো হচ্ছে।’
‘বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন, একথা কে বলছেন’ প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, রিজভী সাহেবসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা এটি বলছেন, কোনো ডাক্তার বা এভারকেয়ার হাসপাতাল বলেনি যে, বেগম জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন। এখন ডাক্তারদের বাদ দিয়ে কি বিএনপি’র নেতারা চিকিৎসক হয়ে গেছেন। সরকার এখন বিএনপি’র নেতাদের প্রেসক্রিপশনে সিদ্ধান্ত নেবে কি না, সেটিও একটি প্রশ্ন।’

মরহুম জিয়া, তাঁর পুত্র তারেক রহমানের অর্থাৎ বিএনপির চরিত্রটি কী এদেশের মানুষ জানে। দুনিয়াবাসী জানেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে সংগঠনের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির জাতীয় নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ওই ঘৃণ্য হামলা চালায় ঘাতকচক্র। শুধু গ্রেনেড হামলাই নয়, ২৪-এর ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করেও চালানো হয় গুলি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আহত হন, তাঁর শ্রবণশক্তি চিরদিনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের কালরাতের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা; সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামাত অশুভ জোটের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, একাত্তরের ঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর নীলনকশায় সংঘটিত হয় নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞ।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই মামলার সঠিক তদন্ত হয়নি, ষড়যন্ত্রের হোতাদের রক্ষার উদ্দেশ্যে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং আলামত ধ্বংস করার নানাবিধ ষড়যন্ত্র হয়েছে। এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় গ্রেনেড হামলা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানো হয়। সুতরাং বিএনপির আজকের অধঃপতন কী এমনি এমনি! কথায় আছে পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বাধিক পঠিত