প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফসান চৌধুরী: আঁধারের সন্ধ্যার সহযাত্রী

আফসান চৌধুরী
সন্ধ্যায় যখন হাঁটতে বের হলাম ছাত্রীটি রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলো, হাতে আমার ‘লাশ’ ওপন্যাসের প্রিন্ট কপি। ‘পড়তে শুরু করেছি স্যার, খুব ভয়াবহ। আপনার সঙ্গে একটু কথাছিলো স্যার’। ততোক্ষণে অন্ধকার নেমেছে ভালো করে। মেয়েটা বাড়ি যাচ্ছে অফিস থেকে। আমরা হাঁটতে হাঁটতে নিকেতনের রাস্তা পর হয়ে গুলশান-১ দিকে গেলাম। সে থাকে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কাছে। [২] আজকাল হাঁটতে হয় সাবধানে। কারণ ট্রাফিক এতো বেয়াদব যে হাঁটা মানুষদের কোনো পাত্তা দেয় না। আমি চিপায় পড়েছি কয়েকবার। দু’জন পাশাপাশি হাঁটা সহজ নয়। এমনিতে চোখে দেখি কম, তার ওপর গাড়ির আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। তাও গল্প করতে করতে এগোলাম। আমি মেয়েটার কনই ধরে আছি। কিছুটা তাকে রাস্তা পার করছি, বেশিটা নিজের নিরাপত্তা বোধ। ‘কোনো সঙ্গী থাকলে হাঁটতে ভালো লাগে’, মেয়েটা বললো।

[৩] অফিস পলিটিক্স সামলে কীভাবে চলতে হয় সেই বিষয় আলাপ করতে করতে আমরা একসময় যেই রাস্তায় উঠলাম সেটা কারও চেনা নয়। তবুও এগিয়ে গিয়ে পুরনো লেকের পারের রাস্তা পেলাম। কতোদিন আসি না। সেটা ব্যবহার করতাম ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যেতে। এখন সম্পর্ক শেষ। তখন বেশ অন্ধকার। মেয়েটা ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রীর ভ‚মিকায় তার মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালালো। একই রকম মানুষের ভিড় আজ, নিকেতনের বাতিগুলো এপার থেকে ঝকমক করে। [৪] বড় রাস্তায় উঠে কিছুটা আশ্চর্য হলো সে। এই শর্টকাট পথ তার জানা ছিলো না। বাড়ি সোজা পথে। আরও কিছু উপদেশ দিয়ে, ফ্রাস্ট্রেটেড হতে মানা করে আমি রওয়ানা দিলাম আলোময়, গড়িময়, লোকময় রাস্তার ফুটপাথ দিয়ে এই আঁধারের সন্ধ্যায়। লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত