প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পানিফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

মজুমদার বাপ্পী: [২] কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকেরা পানিফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বিভিন্ন্ স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারনে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে পানিফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সুস্বাদু এ ফলটি বাজারজাতকরণ খুবই সহজ। সহজেই চাষ করা যায় এ ফলটি। সুস্বাদু হওয়ায় এ অঞ্চলে ক্রেতাদের মধ্যে বেড়েছে পানি ফলের জনপ্রিয়তা। উপজেলা থেকে উৎপন্ন ফল চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলার বাজারে।

[৩] জমি থেকে পানিফল তুলছিলেন তালা উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের রবী শংকর দেবনাথ (৪৫)। তিনি জানান, পানিফল চাষ করে এখন সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। চলতি মৌসুমে সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে পানি ফলের চাষ করেছি। পানি নিষ্কাশিত না হওয়ায় এ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, অন্যান্য কৃষিকাজ করা সম্ভব হয় না। যার কারণে গত তিন বছর ধরে জলাবদ্ধ জমিতে পানিফল চাষ শুরু করেছি। এতে বিঘা প্রতি জমির হারিসহ খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। এখন প্রতিদিন প্রায় ৭ মণ পানিফল বিক্রয় করেন তিনি। বর্তমানে প্রতি কেজি পানিফল বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা। বছর শেষে সবকিছু খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকা থাকে।

[৪] পানিফল তুলছিলেন শ্রমিক সালমা, হাসিনা, জাহিদা। তাঁরা জানান, এখানে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করেন। প্রতি ঘণ্টায় ৩০ টাকা করে মজুরি পান। গাছ থেকে ফল তুলে নিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করে দিতে হয়।

[৫] অন্যান্য চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জলাশয়ে চাষ হওয়া পানিফল স্থানীয় চাষীদের কাছে ‘পানি শিঙ্গাড়া’ নামেও পরিচিত। এ ফলের কোনো বীজ নেই, পাকা ফল থেকে গাছ হয়, কয়েকটি চারাগাছ জমিতে রোপন করলেই পুরা জমি গাছে ভরে যায়।

[৬] নিচু এলাকার বিল-জলাশয়ে মৌসুমি ফসল হিসেবে পানিফল চাষ হয়। বৈশাখ মাস থেকে চাষ শুরু হয় এবং ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ফলন হয়। এ ফল পানিতে ভরপুর এবং তাতে প্রচুর খনিজ উপাদান থাকে।

[৭] তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন জানান, পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। এই ফলের প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি ও ৯০% শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ৬৫৯০% শতাংশ শর্করা ও গ্লুকোজ এবং খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ। তালা উপজেলায় দুই হেক্টর জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত