প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দিনে শ্রমিক ও রাতে ছিনতাই করতো তারা, বাধা দিলেই করা হতো ছুরিকাঘাত

সুজন কৈরী: [২] গাজীপুরের ক্লু-লেস মেহেদী হাসান তুহিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচনসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাসহ নগদ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] সিআইডি বলছে, চক্রের সদস্যদের মধ্যে কেউ দিনে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। আবার কেউ অটোরিরিকশা চালাতো এবং কেউ দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু দিনের কর্মযজ্ঞ শেষে রাতে মিলিত হয়ে ছিনতাই করতো। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল অংশে ফাঁকা ও নির্জন স্থানে অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নেমে পড়তো। সুযোগ বুঝে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সিএনজির মতো বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যেতো। কেউ বাধা দিলে ছুরিকাঘাত করতো চক্রের সদস্যরা।

[৪] গত ১২ নভেম্বর রাতে এই ছিনতাই চক্রটির খপ্পরে পড়েছিলেন গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্মান শেষবর্ষের ছাত্র মেহেদী। ছিনতাইকারীরা মোবাইল চাওয়ায় মেহেদী দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ছিনতাইকারীরা মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টাও করেন মেহেদী। কিন্তু পেছন থেকে চাপাতির কোপে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। ওই ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এই প্রেক্ষিতে সংস্থার এলআইসি শাখার একটি দল গাজীপুরের ক্লু-লেস মেহেদী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচন করে। গ্রেপ্তার করা হয় চক্রের পাঁচ সদস্যকে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাসহ নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

[৫] রোববার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি’র এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, নিহত মেহেদীর বাড়ি গাজীপুরের বাসন থানার মজলিশপুর কাজীপাড়ায়। তার বাবার নাম রফিকুল ইসলাম। মেহেদী লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ৬ মাস ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর রুনু সুপার মার্কেটের একটি অপ্পো মোবাইল কোম্পানির দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।

[৩] মুক্তা ধর বলেন, গত ১২ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোড় এলাকায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা গলাকেটে হত্যা করে মেহেদীকে। ওই ঘটনায় বাসন থানার মামলা হলে সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে ক্লু-লেস মামলার রহস্য উন্মোচন করে। অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে মেহেদী হত্যায় জড়িত সুমন হোসেন (২৪) ও হযরত আলীকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। পেশায় দুজনই ইট-বালুর শ্রমিক। তাদের দেওয়া তথ্যে বাসের হেলপার মাসুদ রানা (২২) ইট-বালুর শ্রমিক অলিয়ার রহমান ওরফে রাজু ও অটোচালক ফখরুল ইসলামকে ছিনতাইকালে ব্যবহৃত অটোরিকশাসহ ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৪] প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, তারা মূলত ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকায় নির্দিষ্ট অটোবাইক নিয়ে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাস্তায় যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই করে। কেউ ছিনতাইকালে বাধা দিলে করলে চক্রটির সদস্যরা ধারালো চাপাতি, লোহার রড দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যেতো।
মেহেদীকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, মেহেদী কোনাবাড়ীর রুনু মার্কেটের ‘লোটাস টেলিকম’ থেকে কাজ শেষে মজলিশপুরের ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। নাওজোড় এলাকার আব্দুল মালেক সরকার নিউ সুপার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে তার কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। মেহেদী প্রতিরোধ করে এবং উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে মেহেদী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে ধারালো চাপাতি দিয়ে গলাকেটে দ্রুত পালিয়ে যায়।

[৫] এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তা ধর বলেন, দিনের কর্মযজ্ঞ দেখে কারো বোঝার উপায় নেই গ্রেপ্তারকৃতরা রাতের ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য ১০/১২ জন। তারা গত দুই বছর ধরে ছিনতাইকাজে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাসুদ রানা একাধিক মামলার আসামি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত