প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণা, রাজশাহীতে দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

ইফতেখার আলম : [২] রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর বেসামরিক পদে টাকার বিনিময়ে চাকুরীর নামে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫।

[৩] শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজশাহী জেলার তানোর থানাধীন ভালুকা কান্দর গ্রাম থেকে মোঃ আনোয়ার হোসেন অরফে সাবের (৪৫) ও মোঃ শফিকুল ইসলাম বাবুলকে (৫০) গ্রেফতার করে র‌্যাবের আভিযানিক দল।

[৪] প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, প্রধান আসামি মো.আনোয়ার হোসেন অরফে সাবের ও মোঃ শফিকুল ইসলাম অরফে বাবুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তারা বলে, বিভিন্ন লোকের নিকট হতে টাকার বিনিময়ে সেনাবাহিনীর চাকুরী দেওয়ার কথা বলে কৌশলে প্রতারণা করে এবং সেনাবাহিনীতে সিভিল চাকুরীর ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়াছে ।

[৫] জানা যায়, উপজেলা তানোরের ভালুকা গ্রামের প্রতারক মোঃ শফিকুল ইসলাম অরফে বাবুল এবং রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানাধিন আনোয়ার হোসেন অরফে সাবের আলী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বাবুলের এলাকার ছেলে রঞ্জু, আলমগীর ও মেহেদী হাসান এর কাছ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেসামরিক বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে একাধারে সাড়ে ৭লাখ , ৮ লক্ষ এবং ৭ লক্ষ টাকা চায়। তারা আবেদনকারীদেরকে নিশ্চয়তা দান করে যে চাকরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাওয়ার পরেই তারা আবদেনকারীদের কাছ থেকে টাকা নিবে।

[৬] পরে তারা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবদেনকারীদের সাবের আলীর বাসায় একটি লিখিত পরীক্ষা নেয় এবং পরর্বতীতে জানুয়ারি মাসেই ঢাকার উত্তরাতে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তাদের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। তারা আবদেনকারীদেরকে নিশ্চিত করে যে তাদের শারীরিক যোগ্যতা ঠিক আছে এবং তাদেরকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পাঠিয়ে দেয়।

[৭] এরপর প্রতারকরা আবদেনকারীদেরকে আশ্বস্ত করে যে ১৫ দিনের ভিতরে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার চলে আসবে।

[৮] ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আসে বলে আবদেনকারীদেরকে জানানো হয়। বাবুল, রঞ্জু ও শহিদুল নামের এক ব্যক্তি সাবের এর বাসায় গিয়ে রঞ্জুকে ভূয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারের অংশবিশেষ দেখায়।

[৯] অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেখার পরে আবদেনকারী র্অথাৎ রঞ্জু, আলমগীর এবং মেহেদী হাসান তাদেরকে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা প্রদান করে ( রঞ্জু সাড়ে ৪লক্ষ টাকা ৩ কিস্তিেিত, আলমগীর আড়াই লক্ষ টাকা তিন কিস্তিতে। তবে মহেদী হাসানের টাকা প্রদানের পরিমান সর্ম্পকে কোন তথ্য জানা যায়নি।

[১০] পরর্বতীতে তাদেরকে জানানো হয়, জুন মাসে তাদের র্কমস্থলে যোগদান করতে হবে এবং তাদেরকে বলা হয়, যোগদানের আগে অবশষ্টি টাকা অবশ্যই দিতে হবে।

[১১] অবশষ্টি টাকা পরেিশাধরে জন্য রঞ্জু, আলমগীর, বাবুল ও সাবের আলীকে রাজশাহীতে ডেকে এনে আলাদা আলাদা ভাবে চেক এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করে।

[১২] রঞ্জু এবং আলমগীর, প্রতারক বাবুল সহকারে (১ জুন ২০২০) ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে যায়। ঢাকা পৌঁছে তারা জানতে পারে, তাদের চাকরির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরপর তারা সাবের আলীকে ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পায়। পরে তারা সাবের আলীর সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাবের আলীর সাথে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়।

[১৩] প্রতারিত যুবকেরা ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফিরে এসে সাবের আলীর সাথে যোগাযোগ করলে সাবের আলী তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানায়।

[১৪] এরপর সাবের আলী বাবলুকে জানানোর পরে বাবলু তাকে পরামর্শ দেয় যে, আবদেনকারীদের বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠানোর জন্য, যাতে তারা ভয়ে এ ব্যাপারে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়। এরপর সাবের আলী, আবদেনকারী রঞ্জুর স্বাক্ষরিত স্টাম্প ও চেককে পুজি করে আবদেনকারী রঞ্জুর বাসায় একটি উকিল নোটিশ পাঠায়।

[১৫] উল্লখ্যে যে, মোঃ আনোয়ার হোসেন অরফে সাবের আলী স্বীকার করে যে, মোঃ শফিকুল ইসলাম ওরফে বাবলু তাকে প্রায় ২বছর আগে অবৈধ উপায়ে টাকা উর্পাজনের জন্য চাকরির নাম করে প্রতারণা করার বুদ্ধি দেয়।

সর্বাধিক পঠিত