প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি গ্রামীণফোন, জাপান টোব্যাকো ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের

বণিক বার্তা: দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে বড় ধরনের ধস নামিয়েছিল মহামারীর প্রাদুর্ভাব। ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে এফডিআই প্রবাহ হ্রাস পায় আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে এ অভিঘাত কাটিয়ে গত অর্থবছরেই (২০২০-২১) এফডিআই প্রবাহ আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে বিদেশী বিনিয়োগের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোন, তামাক খাতের জাপান টোব্যাকো ও ব্যাংক খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।

ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে করা বিনিয়োগের পরিসংখ্যান ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রতি বছরই জরিপ চালিয়ে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। এফডিআই প্রবাহের পরিসংখ্যান ও গতিপ্রকৃতির তথ্য প্রকাশও হয় এ জরিপের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে নিট নিজস্ব মূলধন (ইকুইটি ক্যাপিটাল), আয়ের পুনর্বিনিয়োগ (রিইনভেস্টেড আর্নিংস) ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ (ইন্ট্রাকোম্পানি লোন)—এ তিন ভাগে এফডিআই প্রবাহ হিসাব করা হয়।

এ হিসাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত অর্থবছরে দেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ২৫০ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) এর পরিমাণ ছিল ২৩৭ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসেবে গত অর্থবছরে দেশে এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ সময় নিট এফডিআই প্রবাহের বড় অংশজুড়েই ছিল বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ।

করোনার অভিঘাত কাটিয়ে গত অর্থবছরে এফডিআই প্রবাহ বাড়লেও তা প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছে ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)। দেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ বলছে, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাংলাদেশে এখন বিপুল পরিমাণ চূড়ান্ত বা ফিনিশড প্রডাক্ট আমদানি হচ্ছে। এতে ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির একটা বড় খাত হতে পারে। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের মতো সম্ভাবনার পাশাপাশি গ্রিন ফাইন্যান্সের মতো বিষয়গুলোও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা জোগাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই ভিত গড়ে তুলতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে এমন বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে এফআইসিসিআই সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বলেন, ইকুইটি নিয়ে এসে নতুন কোম্পানিগুলো গঠনের পর স্থানীয় ব্যাংক থেকে মূলধনি ব্যয়ের অর্থায়ন তেমন নেয় না, তবে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নেয়। কিন্তু দেখার বিষয় হলো কর্মসংস্থান কতটা হচ্ছে। বলতে চাচ্ছি, এফডিআই প্রবাহ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সাযুজ্য প্রয়োজন। আবার টেকনোলজি সাবস্টিটিউট আমরা কতটুকু করছি সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে আমাদের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও চূড়ান্ত বা ফিনিশড প্রডাক্টের আমদানি কমবে। আমাদের এখন বিনিয়োগ উপযোগী অনেক জমির সংস্থান হয়েছে। এগুলো দ্রুততার সঙ্গে বিনিয়োগকারীর কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে প্রায় সব অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নতুন বিনিয়োগ আসছে না। এখন দরকার দ্রুত যত বেশি সম্ভব প্রণোদনা দেয়া, যা বিদেশী বিনিয়োগ টানতে সক্ষম। ওই বিনিয়োগগুলোর ভিত শক্ত করতে দেশীয় বিনিয়োগও আরো বাড়বে। এতে করে কার্যকর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোম্পানিভিত্তিক তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, এফডিআই প্রবাহের দিক থেকে শীর্ষ দশের তালিকায় নতুন কোনো বড় কোম্পানি নেই। এক্ষেত্রে পুরনো বা বিদ্যমান বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোরই অবদান সবচেয়ে বেশি। নিট এফডিআই প্রবাহে শীর্ষ ১০ কোম্পানির অবদান ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

গত অর্থবছরে এফডিআই প্রবাহে শীর্ষে ছিল টেলিযোগাযোগ খাতের নরওয়েভিত্তিক টেলিনরের মালিকানাধীন কোম্পানি গ্রামীণফোনের। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ছিল ১৮ কোটি ডলারের বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, বাংলাদেশের বাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় নিয়মিত বিনিয়োগ করছে গ্রামীণফোন, যা করোনাকালেও অব্যাহত ছিল। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কয়েক বছর ধরে গ্রামীণফোন রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে গ্রাহকের ক্রমপরিবর্তনশীল চাহিদা মেটানোও সহজ হবে। করোনার প্রভাবে গ্রাহকদের সেবা ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এটিকে মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সেবার মানোন্নয়ন অব্যাহত রেখেছি। আমরা অ্যাডভান্সড নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি।

গ্রামীণফোনের পরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবাহ ছিল তামাকজাত পণ্যের জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) বাংলাদেশ লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটি তিন বছর আগে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ কনগ্লোমারেট আকিজ গ্রুপের তামাকজাত পণ্যের ব্যবসা অধিগ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা করে। ওই অধিগ্রহণের অর্থমূল্য ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। কোম্পানিটির হাত ধরে গত অর্থবছরে সাড়ে ১৭ কোটি ডলারেরও বেশি এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশে ব্যবসার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জেটিআইয়ের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর জাকির ইবনে হাই বলেন, অধিগ্রহণের পরই আমরা কোম্পানি পরিচালনার প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তিগতসহ অন্যান্য উন্নয়নের প্রয়োজন অনুভব করেছিলাম। সে তাগিদ থেকে নিয়মিতভাবে জেটিআই বাংলাদেশ বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এফডিআই পরিসংখ্যানে। গত তিন বছর বাংলাদেশে ব্যবসা করার অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি যে এখানকার বিনিয়োগ পরিবেশ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে। সরকার এরই মধ্যে করনীতির মতো বিষয় কিছুটা হলেও বিবেচনা করেছে। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের ব্যবসার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করলে বাংলাদেশে নতুন আরো বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে। এক্ষেত্রে অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও রফতানিমুখী উৎপাদন খাতে জাপানসহ আরো অনেক দেশের বিনিয়োগ আসবে বলে প্রত্যাশা করছি।

নিট এফডিআই প্রবাহের শীর্ষ তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাতের ব্রিটিশ বহুজাতিক কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। গত অর্থবছরে ব্যাংকটির এফডিআই প্রবাহ ছিল ১০ কোটি ডলারের বেশি।

এ তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রিলায়েন্স বাংলাদেশ এলএনজি অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ছিল ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের বেশি। ভারতের রিলায়েন্স পাওয়ার ও জাপানের জেরার যৌথ মালিকানাধীন জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানিটির আগামী বছরের মধ্যে ৭১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি খাতের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জায়ান্ট শেভরনের অবস্থান তালিকায় পঞ্চম। গত অর্থবছর শেভরন বাংলাদেশের এফডিআই প্রবাহ ছিল ৯ কোটি ডলারের কিছু বেশি। গ্যাস উত্তোলনে ১৯৯৪ সালে সরকারের সঙ্গে উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) স্বাক্ষর করে শেভরন। সেই থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে গ্যাস উত্তোলনে বিনিয়োগ হয়েছে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি।

তালিকায় শেভরনের পরই রয়েছে তামাকজাত পণ্য খাতের ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটিবিসি) লিমিটেড। গত অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটির এফডিআই প্রবাহ ছিল সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি।

সপ্তম অবস্থানে ছিল বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠান এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সিনার্জি হোল্ডিংস, ডিট্রোলিক ও আইএফডিসি সোলার পাওয়ার (বিডি) লিমিটেড—এ তিন প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চারে গড়ে ওঠা কোম্পানি। এইচডিএফসি সিনপাওয়ার ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে বিপিডিবির সঙ্গে ময়মনসিংহে ৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি সই করে। গত অর্থবছর এইচডিএফসি সিনপাওয়ারের এফডিআই প্রবাহ ছিল প্রায় ৬ কোটি ডলার।

তালিকার অষ্টম কোম্পানি হলো বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিলে বিপিডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়সংক্রান্ত একটি চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে কোম্পানিটি। চীনের পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড ও বাংলাদেশের আইসোটেক ইলেকট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ অংশীদারিত্বে গড়ে ওঠা কোম্পানিটি গত অর্থবছরে এফডিআই এনেছে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের কিছু বেশি। নবম অবস্থানে থাকা কোম্পানিটিও বিদ্যুৎ খাতের। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড নামের কোম্পানিটির মাধ্যমে গত অর্থবছরে দেশে এফডিআই এসেছে সাড়ে ৪ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরে এফডিআই প্রবাহের দিক থেকে দশম স্থান ছিল জ্বালানি খাতের জায়ান্ট সামিটের দখলে। এ সময় সামিট করপোরেশন লিমিটেডের এফডিআই প্রবাহ ছিল ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

তালিকায় একাদশ থেকে ২০তম অবস্থানে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে— কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, দারাজ বাংলাদেশ, ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, বার্জার পেইন্টস, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার লিমিটেড, ইডটকো বাংলাদেশ, এইচএসবিসি, আইটিটি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। গত অর্থবছরে নিট এফডিআই প্রবাহে তালিকার এ শীর্ষ ২০ কোম্পানির অবদান ছিল ৬০ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে বাংলাদেশে এফডিআইয়ের উৎস দেশ হিসেবে গত অর্থবছরে শীর্ষস্থানে ছিল নেদারল্যান্ডস। এর পরই সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে, চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে। এছাড়া বিদেশী বিনিয়োগের খাতভিত্তিক গন্তব্য হিসেবে শীর্ষস্থানে ছিল যথাক্রমে বিদ্যুৎ, বস্ত্র ও পোশাক, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, ব্যাংকিং, বাণিজ্য, কেমিক্যাল, নির্মাণ, কৃষি ও মৎস্য, সিমেন্ট, বীমা, কম্পিউটার সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি, সার এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়োজিত পৃষ্ঠপোষক কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার আগে থেকেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ আসা দরকার ছিল তা আসেনি। আরো অনেক তত্পরতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন, যার ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। করোনার প্রেক্ষাপটে এখন আরো প্রস্তুতি নিয়ে পরিপূর্ণ একটি পরিকল্পনা তৈরি করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রতিযোগী দেশগুলো কীভাবে এফডিআই আকর্ষণ করছে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। সে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে কাজ করে যেতে হবে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবের আগে এফডিআই আকর্ষণে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, কভিডপরবর্তী প্রেক্ষাপটে তা নতুন করে সাজানো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এফডিআই বাড়াতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এফডিআই প্রবাহ বলছে, কভিড-১৯-এর অভিঘাত এরই মধ্যে কাটতে শুরু করেছে। আর বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের লক্ষ্য নিয়ে দেশের মধ্যেও বড় ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সম্ভাবনার বিষয়গুলো যত দ্রুত বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া যাবে, ততই ভালো। প্রবাসে বসবাসরত মূলধারার বাংলাদেশী বিনিয়োগকারীদেরও এখানে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের দরকার আছে। এসব কিছুর ধারাবাহিকতায় অচিরেই বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসতে শুরু করবে বলে আশা করছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত