প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গৃহঋণে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে সাজা বাড়িয়ে সংসদে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস

মনিরুল ইসলাম: [২] গৃহঋণে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে সাজা বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১’ হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি পাসের প্রস্তব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

[৩] স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সদস্যদের বিলটির জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন। ওই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা সাধারণ মানুষকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে গৃহঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

[৪] বিলটির জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রথমবার ফ্ল্যাট নির্মাণকারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এখন যেসব কর্মকর্তা মিথ্যা তথ্য দেখেও ঋণ দেন তাদের শাস্তির বিধান রাখতে হবে। তিনি শহরে এলাকার সঙ্গে গ্রামেও গৃহঋণ দেওয়ার দাবি জানান।

[৫] জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য পীর ফজলুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা পাঁচ শতাংশ সুদে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ পান। এই সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এতে সংকটে থাকা আবাসন খাতের উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

[৬] আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সময়মতো বিলের নোটিশ না পাওয়ার অভিযাগ করেন। তিনি ঋণ বিতরণে অনিয়মের কথা তুলে ধরে সহজ শর্তে সারাদেশে স্বল্প আয়ের মানুষের গৃহঋণ দেওয়ার দাবি করেন।

[৭] সংসদে পাস হওয়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করপোরেশনের কার্যপরিধি বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিচালনা পর্ষদের গঠন সুনির্দিষ্টকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ, তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশীয় ও আন্তির্জাতিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনসহ ঋণ গ্রহণ, অপরাধের শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, অপরাধের আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা, ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ ও অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান সংযোজনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংগতি রেখে বিদ্যামান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হয়েছে।

[৮] বর্তমান আইনে বলা আছে, করপোরেশনের কাছ থেকে কেউ যদি ঋণ গ্রহণে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বিবরণী দেন বা জেনে শুনে মিথ্যা বিবরণী ব্যবহার করেন বা করপোরেশনে যেকোনও ধরনের জামানত গ্রহণে প্রবৃত্ত করেন, তাহলে দুই বছর কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। বিলে সেটাকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত