প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা, আইনী বাস্তবতা ও খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা

দীপক চৌধুরী: আজ একে একে অনেক ঘটনাই পরিষ্কার হচ্ছে। রাস্তাহীন রাজনীতি কোনোভাবেই গতি পায় না। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া অগ্রগতি, উন্নতি, গণতন্ত্র ও গণমুখী রাজনীতি নেই। আছে রক্তারক্তি ও ঘৃণা। আমরা গত পাঁচ দশকে কি দেখেছি? দেখেছি গণতন্ত্র হত্যা ও ক্ষমতায় বসবার আগ্রাসন। লোকমুখে বিএনপি নামে পরিচিত দলটি যখন দেখলো, ১৫ আগস্ট আর ২১ আগস্ট হত্যাযজ্ঞ চালিয়েও কাজ হয়নি তখন বিকল্প রাস্তার চিন্তা শুরু করে । ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সেই গ্রেনেড তিনিই ভ্যানিটি ব্যাগে করে এনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন,’ খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্য আমাদের কী আজানা?

সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে যে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার কোনো পরিকল্পনাই যখন কাজে আসেনি তখনই তাদের সমমনা দলের পরিকল্পনায় নতুন একটি নকশা এনেছিল তখন, এটিকে বলা হয়ে থাকে ‘ওয়ান ইলেভেন’। অবশ্য বিএনপির সেই স্বপ্ন এখন আর পূরণ হবে না। ‘ওয়ান-ইলেভেন’ কীভাবে গণতন্ত্রকে নষ্ট করছে তা আমরা সকলেই জানি। তবে হাঁ এটাও তো স্বীকার করতেই হয় যে, বিএনপির সেই চাল কাজে আসেনি। এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার শনাক্ত করে বাদ দিয়েছে তারা। বিএনপি-জামায়াতের দীর্ঘদিনের উদ্দেশ্য ছিল- এদেশে এক কোটি তেইশ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে জনগণের সঙ্গে তামাশা করা। এটিই মূল ইচ্ছে ছিল বিএনপির। দেশের জনগণ ভাল করেই জানে, প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করতে চেয়েছিল তারা? বিএনপি-জামায়াত সরকার বিচারপতি হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানাতে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়েছিল? কিন্তু ষড়যন্ত্র করে লাভ হয়নি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতৃত্বে মহাজোটকে জনগণ অভূতপূর্ব গণরায় দেয়।

’৭৫ এর পর ২১টি বছর জাতি এদেশের রাজনীতি প্রত্যক্ষ করেছে। আজকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারের টানা ১২ বছরের শাসন। অবশ্য জনগণ খুশি হলেও এরজন্য সবচেয়ে বেশি গাত্রদহ বিএনপি-জাতীয় পার্টির। দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হবে কি না, তা আইনগতভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খালেদা জিয়ার জন্য আমি আমার নির্বাহী ক্ষমতা বলে যা করতে পারি তাই করেছি, আইন পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে তাঁর সাম্প্রতিক স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এ অংশগ্রহণ এবং লন্ডন ও ফ্রান্সে দু-সপ্তাহের সফর বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিএনপি’র দাবির প্রেক্ষিতে একথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের সামনে এ প্রশ্নটি তুলে বলেন, “আমার কাছে প্রশ্নের উত্তর চান? খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে এবং চিকিৎসা করারও সুযোগ দিয়েছি। সেটাই কি বেশি নয়!’

আমরা জানি, শুধু আমরা নয় গোটাবিশ^ জানে যে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে কারাগারে যাওয়ার পর গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে কিছু শর্তে সাময়িক মুক্তি দেয়। শর্তানুযায়ী তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তবে, তার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার কথা থাকলেও তিনদফায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর একই হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার তাঁকে হত্যা প্রচেষ্টায় খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উত্থাপন করে উল্টো প্রশ্নকারী সাংবাদিককে প্রশ্ন করেন, “আপনাকে কেউ হত্যার চেষ্টা করলে আপনি কি তাকে ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন? বা আপনার পরিবারকে কেউ হত্যার পর বিচার না করে সেই খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়ে যদি পুরস্কৃত করতো তাহলে কি করতেন?

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত