প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবির বিকাশ সরকার: রাজীনীতির মানুষ আফজাল খান,আমার আফজল চাচা

প্রবির বিকাশ সরকার
যতোখানি মনে আছে, ১৯৭২ সালে আমি তাঁকে আমি প্রথম দেখি। তারপর আরও কতোবার যে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যস্তসমস্ত তাঁকে দেখেছি হিসেব নেই। বাবার অফিস পুলিশ কোর্টে দেখেছি একাধিকবার। বাবার সঙ্গে কথা বলছেন হেসে হেসে। সেখানে হঠাৎ আমি উপস্থিত হলে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন। বাবাকে খুব সমীহ করতেন চাচা। বাবার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আফজল খান। তিনি আর এডভোকেট আলী ইমাম বাবার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বাবা চলে গেল আগে। এরপর আলী ইমাম চাচা। এবার চলে গেলেন আফজল চাচা। শূন্যতার পরিমÐলটা আরও বিস্তৃত হলো।

চাচা কুমিল্লা আওয়ামী লীগকে যে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার তুলনা হয় না, অন্তত আমার দৃষ্টিতে। নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ছাড়েননি, ছাড়েননি আওয়ামী লীগকেও। এখনো মনে পড়ে চাচার একটি ছোট্ট কালো মোটর গাড়ি ছিলো। গাড়ি থেকে নেমে যখন হাঁটতেন, সেই ঢিলেঢালা শার্ট-পেন্ট পরিহিত চাচাকে দারুণ লাগতো আমার! একটা ইড়ংং-ইড়ংং ঢ়বৎংড়হধষরঃু তাঁর কথাবলা, চাহনি এবং পদচারণার মধ্যে ফুটে উঠতো। আমি সেটা খুব উপভোগ করতাম, তখন আমার কৈশোরকাল। তাঁর কথাবলার ভঙ্গিটাই দারুণ আকর্ষণীয় ছিলো আমার কাছে! এমন একজন দীপ্ত, দৃঢ়চিত্ত এবং স্পষ্টভাষী মানুষ আর সহসা জন্ম নেবেন বলে মনে হয় না।

২০১৯ সালে কুমিল্লায় ফিরেছিলাম তখন ঠাকুর জিয়াউদ্দিন আহমদ তথা জিয়া কাকা আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন চাচার অফিসে, মডার্ন স্কুলের ভেতরে। বেশ কয়েকজন অতিথি ছিলেন ঘরে। ব্যস্ত ছিলেন, তারপরও সম্ভাষণ করে কাছে ডেকে নিয়ে পাশে বসতে বললেন। ঘণ্টাখানেক তাঁর কথা শুনেছিলাম। তিনি একবার জাপানে এসেছিলেন, তখন আমি জাপানে ছিলাম না। পরে শুনেছিলাম। সেদিন জাপানের গল্প করলেন। তারপর বাবার প্রসঙ্গে অনেক স্মৃতিচারণ করলেন যা আমাকে আবেগে আপ্লæত করেছে। মনে রেখেছিলেন বাবাকে দেখে অশ্রæসিক্ত হয়েছিলাম। যখন বললেন, ‘আহারে! পরেশদা’র মতো মানুষ আর দেখি নাই! যখনই গেছি পরেশদা খালিমুখে ছাড়েন নাই। কতো সাহায্য করেছেন নানা ঝামেলার সময় সেই পাকিস্তান আমল থাইক্যা! ভাতিজা, তোমাকে দেইখ্যা পরেশদা’র মুখটা মনে পড়তাছে।’

আফজল চাচা আর যাই হোক, একটা বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, সেটা শিক্ষা। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিনি করে গেছেন, মানুষ তাঁকে মনে রাখবে সন্দেহ নেই। এটাকে আমি অনেক বড় অবদান বলে মনে করি। এই শহরের কজন নেতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন তাঁর মতো, আমি তো দেখি না! বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোও উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তিনি স্মরণযোগ্য মানুষরূপে পরিগণিত হবেন। এই দিকটি বিচার করলে তিনি দূরদর্শী ছিলেন বলতে হবে। তথাপি, দোষে-গুণে মিলিয়ে মানুষ। চাচাকে আমি ফেরেস্তা বলবো না, তিনিও মানুষ ছিলেন। তাঁর ভালো কাজগুলোই আলো দেবে এবং তাঁর নাম অনাগত ভবিষ্যতেও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে কুমিল্লার মানুষের মনে। আফজল চাচার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। আমার ‘অন্তলান্ত পিতৃস্মৃতি’ গ্রন্থে তাঁর প্রসঙ্গ আছে, সেটাই আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁর জন্য। তিনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। লেখক : রবীন্দ্রগবেষক

 

সর্বাধিক পঠিত