প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শাহজাদপুরে চিত্রনায়িকা বর্ষার দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ

নিউজ ডেস্ক: [২] বিশ্বে অনেক সেলিব্রেটি আছেন যারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরা‍ঁ এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। আবার অনেক সেলিব্রেটি এমনও আছেন, যারা কোটি কোটি টাকা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন। তবে এই প্রচলন বাংলাদেশের সেলিব্রেটিদের মধ্যে খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। তবে মানুষের জন্য এ রকমই একটি দৃষ্ট‍ান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন দেশের আলোচিত চিত্রনায়িকা খাদিজা পারভীন বর্ষা। সকালের সময়

[৩] চিত্রনায়িকা বর্ষা প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছেন একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে চিত্রনায়িকাদের উদ্যোগে এরকম মসজিদ নির্মাণের ঘটনা খুবই কম। চিত্রনায়িকা বর্ষার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের গারাদহ ইউনিয়নের গারাদহ পুরাতন বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের গাঁ ঘেষে এক বিঘা জায়গার ওপর মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

[৪] সরেজমিনে চিত্রনায়িকা বর্ষার গারাদহ গ্রামের পিত্রালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশেই করতোয়া নদীর কোলঘেঁষে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুদৃশ্য মসজিদের সৌন্দর্য উ‍ঁকি দিচ্ছে মানুষের চোখের কোনে। প্রধান ফটক ও সীমানা দেয়াল মোঘল আমলের ইসলামী অবয়বে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান ফটক ও দেয়ালের নির্মাণকাজ শেষ এখন শুধু রং মাখানো বাকি।

[৫] প্রধান ফটকের ভেতরে প্রায় বিস্তৃত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে এবং মূল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে সাড়ে ১২ শতাংশ জায়গার ওপর। এক তলাবিশিষ্ট এই মসজিদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৫৫ ফুট উচ্চতার একটি মিনার তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও পাশের ওজুখানায় কাজ করছেন রাজমিস্ত্রীরা, তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে কর্মরত রাজমিস্ত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

[৬] মসজিদের কেয়ারটেকার ও নায়িকা বর্ষার খালু মো. ইয়াকুব প্রামাণিক বলেন, প্রায় ‍এক বছর যাবৎ মসজিদের নির্মাণকাজ চলছে। এ সময় কয়েক দফায় মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখনই সর্বমোট ব্যয় বলা সম্ভব নয়।

[৭] তিনি আরও জানান, মসজিদের প্রবেশ মুখের ছাদে একটি দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরে ও দেয়ালে টাইলস লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২০টি দৃষ্টিনন্দন জানালা রাখা হয়েছে। এই মসজিদে নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

[৮] তিনি বলেন, মুসল্লিদের জন্য মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি ওজুর স্থান ও দু্দিকেই শৌচাগার রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে মুসল্লিদের নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধন করবেন আমার ভাগ্নি বর্ষা ও তার স্বামী চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল।

[৯] চিত্রনায়িকা বর্ষার পিতা মো. আঈনুল হক বলেন, আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে মানুষ করেছি। সে যতবড় মাপের মানুষই হোক না কেন তার ধর্মীয় অনুভুতি প্রবল। সে প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করে। সে মসজিদ নির্মাণ করেছে এই নিয়তে যেন আল্লাহপ‍াক খুশি হন এবং তার স্বামী অনন্ত জলিল, ২ সন্তান, পিতা-মাতা ও সকল আত্মীয়স্বজনকে ইহকাল ও পরকালে ভালো রাখেন।

[১০] গারাদহ গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগটা অত্যন্ত উত্তম একটি বিষয়। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাছাড়া দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের কাজ শেষ হলে অত্র অঞ্চলের মুসলিমদের কাছে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

[১১] এ বিষয়ে চিত্রনায়িকা বর্ষার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ইনশা আল্লাহ আগামী ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের সময়ই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত