প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর: কোর্টে রেইনট্রির ধর্ষণ মামলায় রায় প্রদানকারী বিচারককে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বা তদন্ত হওয়া জরুরি

শওগাত আলী সাগর: [১] ‘sex and pain sometimes go together, that thatÕs not necessarily a bad thing.’- সাধারণ আড্ডায় কথাটাকে নির্দোষ মনেই হতে পারে। কিন্তু ধর্ষণের শিকার হওয়া কোনো নারীকে যদি কেউ এই কথা বলে। কিংবা যদি বলে, ‘এই মেয়ে, তুমি তোমার দুই হাঁটু একসঙ্গে চেপে রাখতে পারলে না? কিংবা তোমার বিশেষ অঙ্গটিকে এমনভাবে সংকুচিত করে রাখতে পারলে না যাতে পুরুষটির বিশেষ অঙ্গ ঢুকতেই না পারে।’ বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে গিয়ে আরেক বন্ধু কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হওয়া ১৯ বছরের এক তরুণী যখন বিচার চাইতে আদালতের শরণাপন্ন হয়, তখন খোদ বিচারক রবিন ক্যাম্প এই কথাগুলো বলেছিলেন ধর্ষণের শিকার মেয়েটির উদ্দেশ্যে। আর তিনি সেগুলো বলেছিলেন বিচারকার্য পরিচালনার সময় প্রিজাইডিং জাজ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায়। রায়ে রবিন ক্যাম্প অভিযুক্তকে খালাস দেন। ঘটনাটা ২০১৪ সালের, কানাডার আলবার্টার প্রভিন্সিয়াল আদালতের। পরে অবশ্য আপিলে তার এই রায় বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে বিচারের নির্দেশ হয়। নতুন বিচারেও অভিযুক্ত খালাস পায় এবং আদালত অভিযোগকারীকে ‘ইনকনসিস্টেন্ট এবং নট ক্রেডিবল’ বলে মন্তব্য করে। কিন্তু রবিন ক্যাম্পের ‘ধর্ষণ ঠেকাতে হাঁটু চেপে রাখার’ তত্ত্বের কারণে তার (তিনি এখনো ‘knees together judge’ হিসেবে পরিচিত) বিচারক জীবনের ইতি ঘটে। সেই কাহিনিই বলি।

[২] ২০১৬ সালে ফেডারেল আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য রবিন ক্যাম্পের নাম আসে। সেই সময় ক্যালগেরির কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ২০১৪ সালে ক্যাম্পের দেওয়া সেই মামলার রায়ের ট্রান্সক্রিপ্ট যুক্ত করে এটর্নি জেনালের অফিসে (আইন মন্ত্রণালয়কে কানাডায় এটর্নি জেনারেল অফিস বলা হয়) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সঙ্গে সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কানাডিয়ান জুডিসিয়াল কাউন্সিল সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফেডারেল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কানাডার সবক’টি প্রভিন্সের প্রধান বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত কানাডিয়ান জুডিসিয়াল কাউন্সিল দীর্ঘ শুনানি শেষে তাকে অপসারণের সুপারিশ করে তা কার্যকর করতে সরকারের কাছে পাঠায়। সংসদে তার অপসারণের সিদ্ধান্ত ওঠার আগেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দেন।

[৩] বিচারপতি রবিন ক্যাম্পের কাহিনিটা খুবই চমকপ্রদ অবশ্যই। সেদিকে না গিয়ে তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কানাডিয়ান জুডিসিয়াল কাউন্সিল যে যুক্তিটি দিয়েছিলো, সেটি উল্লেখ করি- কানাডিয়ান আদালত স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করে বলে সাধারণ মানুষের মনে যে বিশ্বাস রয়েছে, রবিন ক্য্যাম্পের বক্তব্য সেই বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মানুষের বিশ্বাসের মূল্য দেওয়ার জন্যই তাকে বিচার বিভাগ থেকে অপসারণের কোনো বিকল্প নেই। [৪] রেইনট্রির কোর্টে ধর্ষণ মামলায় রায় প্রদানকারী বিচারকের সঙ্গে রবিন ক্যাম্পের ঘটনার সামঞ্জস্য আছে বলে আমার মনে হয়েছে। ‘আদালত স্বাধীন এবং নিরপেক্ষভাবে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করে বলে সাধারণ মানুষের মনে যে বিশ্বাস রয়েছে’ সেই বিশ্বাসকে মর্যাদা দিতে রবিন ক্যাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই কারণে এই বিচারকের ব্যাপারে একটি পর্যালোচনা বা তদন্ত হওয়া জরুরি।

লেখক : কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত