প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লুৎফর রহমান রিটন: মোছা. কামরুন্নাহার কি একজন ধর্ষকবান্ধব বিচারক?

লুৎফর রহমান রিটন: ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে আমি নির্বাহী সম্পাদক ছিলাম খবর হাউজের মেয়েদের সাপ্তাহিক ‘মনোরমা’র। মনোরমায় আমি পাঠকদের অংশগ্রহণের জন্য একটি বিভাগ শুরু করেছিলাম। বিভাগটির নাম ছিলো ‘বিতর্ক’। সমাজে নারী কর্তৃক নারী নিপীড়ন নারী নির্যাতন নারী নিগ্রহের অজস্র ঘটনা অবলোকন করেই বিতর্কের বিষয় হিসেবে শিরোনাম নির্ধারণ করেছিলামÑ‘মেয়েরাই মেয়েদের বড় শত্রু’। বিপুল পাঠকের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিলো বিতর্কটি। সেই ঘটনার প্রায় তেত্রিশ বছর পর, দেশের একটি বহুল আলোচিত ধর্ষণ মামলা বিষয়ে একজন নারী বিচারকের রায় ও তাঁর বিস্ময়কর পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট পড়ে ফের আমার প্রতীতী জন্মেছে যে, মেয়েরাই মেয়েদের বড় শত্রু। (পুরুষ তো বটেই।)

আমরা স্মরণে আনতে পারি ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দুই তরুণীকে নিয়ে আসে আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের সুপুত্র সাফাত আহমদ! সেখানে সাফাত এবং তার বন্ধুরা সেই দুই তরুণীকে মদ খাওয়ানোর পর একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতাদের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয় হয় সুপুত্র ও তার ৫ সহযোগীকে। গেলো ১১ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার সেই মামলার রায়ে পাঁচ ধর্ষকের সবাইকে খালাস দিয়ে দেন। মামলার আসামিদের তালিকায় ছিলো সুপুত্র সাফাত আহমেদ, সাফাতের দুই বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম ও সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও সুপুত্রের দেহরক্ষী রহমত আলী। রায়ের সঙ্গে তিনি তাঁর এখতিয়ার বহির্ভূত কিছু পর্যবেক্ষণও লিপিবদ্ধ করেছেন।

পর্যবেক্ষণে বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার পুলিশের উদ্দেশে বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নিতে। মোছা. কামরুনকে কে বোঝাবে যে ধর্ষণ কোনো আনন্দদায়ক ব্যাপার নয় যে ধর্ষিতা মেয়েটি তাতা থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ নৃত্য করতে করতে থানায় চলে যাবে। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ একটি নৃশংসতা ঘটার পর একটি মেয়ে এক অবর্ণনীয় ট্রমার মধ্যে থাকে। সেই ট্রমা কাটিয়ে ওঠা কারো কারো পক্ষে সম্ভব হয় না বাকি পুরো জীবনেও।

মোছা. কামরুন আপার কোনো কন্যা বা বোন আছে কিনা জানি না। থাকলে, এরকম কোনো নৃশংসতা তাদের কারো ওপর সংঘটিত হলেও কি তিনি এরকম প্রকারান্তরে ধর্ষকের পক্ষেই দাঁড়িয়ে যাবেন? বিচারকের পদটিকে কলুষিত করবেন? কোনো প্রলোভন কিংবা প্রাপ্তিতে নিজের বিবেক-বুদ্ধি-বিবেচনাবোধ সব কিছু বিস্মৃত হবেন? মনে রাখতে হবে ধর্ষণ কোনো মামুলি অপরাধ নয় এবং সেটা অনুধাবন করেই ইতোপূর্বে হাইকোর্টের দেওয়া এক রায়ে বলা হয়েছে যে, শুধু ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়ার কারণে ধর্ষণ প্রমাণ হয়নি বলা যাবে না বা আসামি খালাস পেতে পারে না। ভিকটিমের মৌখিক সাক্ষ্য ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ভিত্তিতেই আসামিকে সাজা দেওয়া যেতে পারে। হাইকোর্টের সেই রায়কেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন মোছা. কামরুন্নাহার।

মোছা. কামরুন্নাহারের মতো একজন ধর্ষকবান্ধব মহিলা বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত থাকেন কোন আইনে? একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার ক্ষোভ ও নিন্দা উচ্চারণ করছি। দাবি করছি ধর্ষকবান্ধব বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারেরও।
লেখক : ছড়াকার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত