প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আকরামুল হক: বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিশোর হত্যার দায়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

আকরামুল হক: মাত্র ৫০ টাকা বাড়তি না পেয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে খুন করে ফেলেছে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক খণ্ডকালীন কর্মচারী আসাদুজ্জামান। অক্সিজেনের অভাবে কিশোরটি ধরাধাম ত্যাগ করেছে। রাজধানীর যেকোনো সরকারি হাসপাতালে গেলেই একই চিত্র দেখতে পাবেন। টাকা না দিলে কাউকেই আপনি ট্রলি নিয়ে আসতে দেখবেন না। এর মধ্যে হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয়ের বাইরের লোকও দেখতে পাবেন যারা কর্মচারীদের প্রক্সি দিচ্ছে। কারও গলায় পরিচয়পত্র নেই। কে হাসপাতালের কর্মচারী আর কে বহিরাগত? তা চেনার কোনো উপায় নেই। সরকারি হাসপাতালগুলো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের কাছে জিম্মি।

স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারের এক আদেশে হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বদলি বন্ধ হয়ে যায়। বদলি করা যাবে না মর্মের এক সিদ্ধান্তেই হাসপাতালগুলো কর্মচারীদের পৈতৃক সম্পত্তিতে যেমন রূপ নিলো, তেমনি কর্মচারীদের বেপরোয়া আচরণেরও জন্ম দিলো। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের আবাসন এলাকায় ভাতের হোটেল ও নানান দোকান বসিয়েছে কর্মচারী নেতারা। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর নার্স ও ব্রাদারদের বেশিরভাগই ড্রেসকোড মেনে চলেন না। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজ শিক্ষিকা অঞ্জলী রানী দেবিকে হত্যা করা হয়েছিলো ক্লাসে হিজাব না পরে ড্রেসকোড মানতে বাধ্য করার কারণে। নার্স অঞ্জলী রানী দেবী হত্যারও বিচার হয়নি। এখন হাসপাতালগুলোতে হিজাবের ভারে নার্সিং পেশার ড্রেসকোড উবে গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যতোই বাজেট বাড়ছে হাসপাতালগুলোর মান ততোই নিচে নামছে। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব, স্বাস্থ্যের ডিজি ও হাসপাতালের পরিচালক ওয়ার্ডের বাথরুম ব্যবহার করতে পারলেই হাসপাতালগুলোর মান বাড়তে শুরু করবে তা নিশ্চিত। বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কিশোর হত্যার দায়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। হাসপাতাল কর্মচারীর বেপরোয়া আচরণে খুন হয়ে যাওয়া কিশোর বিকাশ চন্দ্র কর্মকারের পরিবারের জন্য শোক।

Akramul Haque-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

সর্বাধিক পঠিত