প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: হুমায়ূনের অর্থই আশীর্বাদপুষ্ট

অজয় দাশগুপ্ত : বাংলাদেশের কথাসাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রÑ একজন মানুষ চলে যাওয়ায় পঙ্গু। এটাই বাস্তব। তিনি যতোদিন ছিলেন রমরমা সব। তাঁর জীবন নিয়েও রসে রঙিন বাঙালি। হুমায়ূন আহমেদ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। নবীনদের অনেকেই এখন তুমুল জনপ্রিয়। তাদের হাতে সামাজিক মিডিয়া। ডিজিটাল যুগ তাদের দিয়েছে অনেক গতি। তাদের অনেকেই মনে করে হুমায়ূন আহমেদকে ছাপিয়ে গেছেন অথবা যাবেন। কিন্তু আমি মনে করি এটা অসম্ভব। মাথা ভারি লেখাও পড়ি বৈকি। রেফারেন্স হিসেবে লাগে। চিরতার পানিও খেতে হয়। শরীরে লাগে। না তা শরবত না সুস্বাদু। আপনারা যারা বড় বড় লেখক, নাক উঁচু, জীবনমুখী, ক্লাসিক, মহাকালজয়ী, জী জী আপনাদের বই কিনি। সাজায়ে রাখি যাতে নিজের মান দণ্ডায়মান থাকে। কিন্তু গোপনে এই লোকটার হালকা চালের লেখা বইটা নিয়ে সরে পড়ি। ধরেন যে উড়োজাহাজে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিতেছি। মাথার ওপর নীলাকাশ নিচে সমুদ্র। তখন কি তত্ত্ব না জীবনঘনিষ্ঠ লেখা পড়বো?

তখন জীবন নিজেই হাতের মুঠায় ছটফট করে আর এই লোকটার গল্প, জীবন কাহিনি, হাসি কান্নার কথা পড়ে ভুলে যাই আমি আসলে ওপরে না নিচে?

বিশ্বাস করেন আমি টিভি নাটক দেখি না। ভাষার পশ্চাৎতে এমন বাঁশ দেওয়া ডায়লগ কাঁহাতক? অথচ কী আশ্চর্য বিদেশে আসার পর ভিডিও ক্যাসেটে বহুব্রীহি দেখতাম আর কাঁদতাম। জানেন, বুড়া হওয়ার পথে তখন। বিয়ে করে ছেলেও হয়েছে। কিন্তু বুকের পাটা ছিলো না কোথাও কেউ নাই এর শেষ পর্ব দেখার। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভাবছি বাকের ভাই মরেনি। পারছেন এমন একটা নাটক লিখতে, যার শেষ পর্ব প্রচারিত হওয়ার দিন সকালে মূল চরিত্র বেঁচে আছে এমন ছবিসহ নিউজ করতে হয়, যেন দেশে মারদাঙ্গা না লাগে। মুক্তিযুদ্ধের এতো কাহিনি এতো বক্তৃতা, এতো এতো সেমিনারÑ কই তুই রাজাকারকে কেউ অতিক্রম করতে পারলেন? তাও এক নিরীহ টিয়ার বলা গালি। হয়ে গেলো রাজাকারদের চিরআতঙ্ক। যতোই বলেন এই মাঝারি মানের লেখকের গোড়ার দিকের লেখা উপন্যাস পড়ে গলায় দম আটকানো কষ্ট ছিলো কয়েক রাত। এর বই বের হওয়ার আগে বাংলাদেশের লেখকের বই বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়া যায় এটা কারও মাথায়ই ছিলো না।

সীমাবদ্ধতা অনেক। জনপ্রিয়তার দায় চুকাতে বেশি লেখা, যেনতেন নাটক সিনেমা বানানো, প্রেম করা বিয়ে ভেঙে কন্যার বন্ধুর প্রেমে পড়া। কিন্তু কী জানেন এগুলো করতেও নাম যশ বুকের সাহস লাগে। গোপনে জল খাওয়া আমরা কোনটা পারি না। সব মিলিয়ে মজার ও বিচিত্র এক মানুষ। ভালো করে কথা বলতে পারতেন না লাজুক অন্তর্মুখী। অথচ সেরা কথাসাহিত্যিক। দুই বাংলার বেস্ট সেলার। মৃত্যুর পর যতো মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলো কোনো কোনো রাষ্ট্র নায়কের বেলায়ও তা হয় না। ওয়ান অ্যান্ড অনলি হুমায়ূন আহমেদ। আমার মতো স্বল্প মেধা কম জানা মাঝারি মানের মানুষের বড় প্রিয় লেখক। জন্মদিনে শ্রদ্ধা।
লেখক : কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত