প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুমিল্লার গোমতী নদীর চরের উবর্র ফসিল জমি মাটি খেকো সিন্ডিকেট দখলে

মো. তরিকুল ইসলাম: [২] কুমিল্লা জেলার একমাত্র খরস্রোতের নদী যা সম্পূর্ন ভারতীয় গোলা পানির ঢল নেমে আশা আবদ্ব থাকে বছরের ছয় মাস। আর এই নদীর নাম গোমতী নদী। যার দুইপাড়ের উপরে অংশে বেরীবাধ থাকায় তেমন বাংলাদেশী পানি বহমান হয় না।

[৩] কুমিল্লা সদর, বুড়িচং, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, দাউদকান্দির অংশের ৫৮কিলোমিটার দুই তীরের বিস্তির্ণ ভুমি কৃষি ফসল উৎপাদনে চরের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। কৃষিবিদ এর মতে গেমতী চরের উর্বর পলিমাটিতে সব ফসলই ভালো হয়। উর্বর এই চরের জমিতে রাসায়নিক সার ও কিটনাশকও লাগে কম ফলন হয় চমৎকার। ধানসহ বিভিন্ন সবজি যেমন সীম, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, গোলআলু, মিষ্টিআলু, টমেটো, কাঁচামরিচ, মুলা, বরবটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি সহ প্রায় সকল প্রকার সবজির উৎপাদন হয় চরের উর্বর মাটিতে। অনেকের সংসার ও জীবন জিবিকা চলে চরের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেই।

[৪] তবে শুষ্ক মৌসুম এলেই কৃষকদের আতংক আর দুঃখের কারন হয়ে দাড়ায় চরের এসকল জমি। মাটিকাটা ঠিকাদার, মাটিখেকো সিন্ডিকেট ও ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম্য দিশেহারা হয়ে পরে কৃষকরা।

[৫] বেশি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে জোর করেই দিনে বা রাতে কেটে নেয় উর্বর জমির পলিমাটি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনে বা রাতে চরের উর্বর জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। শীত এলেই চরের জমিতে চলে শতশত ভেকু মেশিন, ড্রেজার আর কোদালের আঘাত, ক্ষতবিক্ষত হয় সবুজ ফসলের আদর্শ ভুমি। ট্রাক্টর ড্রামট্রাকের চাকায় পিষ্টসহ হেক্টরের পর হেক্টর আবাদি জমি।

[৬] কৃষকদের কথা মাথায় রেখে গত বছর থেকে গোমতীর বালু মহালের ইজারা বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মহোদয়, ইজারা বন্ধ থাকলেও চরের জমিতে গোপনে দিনে বা রাতে মাটি কাটা বন্ধ হয়নি এখনো।

[৭] এসব মাটিকাটার ফলে শুধু যে ফসলের ক্ষতি হয় তা নয়, মাটিবাহী ভারী ট্রাক্টর ও ড্রামট্রাক ভেকু মেশিন চলাচলের কারনে শতশত কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বাঁধের সড়কগুলো বছর না ঘুরতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। শহর প্রতিরক্ষা বাঁধগুলোও হুমকির মুখে পরেছে অপরিকল্পিত ভাবে বাধেঁর গোড়া থেকে মাটি কাটার ফলে। সেই সাথে গোমতীর ব্রিজগুলোর নিচ থেকে মাটি কেটে নেয়ার ফলে ঝুঁকির মুখে রয়েছে ব্রিজগুলো।

[৮] বাঁধেরও ওপর চরের বিভিন্ন অংশে বাগান ও গাছাপালা কেটে সাবার করা হচ্ছে। ভয়ংকর ভাবে বাঁধের গোড়া থেকে মটি কেটে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে করে বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীরা বন্যার সময় দুর্ঘটনার আশংকায় রয়েছে। এছাড়া পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাবতো পরছেই। সবুজ ফসলের চর ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় গোমতী নদীর সৌন্দর্যও হারাচ্ছে দিনের পর দিন।

[৯] চরের মাটিকাটা সিন্ডিকেটের বেশির ভাগই স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় চরের কৃষকরা প্রতিরোধ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। আবার অনেক জমীর মালিকই বেশী টাকার লোভে মাটি বিক্রি করেদেন ইটভাটা মালিকদের কাছে। চরের ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে গতবছর বেশকিছু অভিযান পরিচালনা করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। এতে বেশকিছু ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করাসহ জব্দ করা হয়। জরিমানাও করা হয় মাটিকাটা সিন্ডিকেটের অনেককে। তবে এতেও কোন কাজ হয়নি। মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় বন্ধ হচ্ছে না চরের মাটিকাটা।

[১০] শীতের আগমনের সাথে সাথেই আবারো শুরু হয়েছে চরের মাটিকাটার উৎসব। বিশেষ করে সদর বুড়িচং দেবিদ্বার এলাকার গেমতীর চরে মাটি কাটা চলছে দিন রাত। ইটভাটার মালিক, ঠিকাদার ও মাটিকাটা সিন্ডিকেট লোভনীয় অফার দিয়ে চরের কৃষকদের আবাদী জমির মাটি কেনা শুরু করেছেন।

[১১] কুমিল্লার সচেতন নাগরিক সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোসহ চরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে রক্ষা পাবে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী গোমতী নদী। শস্য শ্যামল প্রকৃতি আর দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে কুমিল্লার গোমতী নদী এমনটাই আশা করছেন কুমিল্লাবাসী।

সর্বাধিক পঠিত