প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রংপুরে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত ৫, আটক ৪

আফরোজা সরকার, রংপুর প্রতিনিধি: পীরগাছা উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পুলিশের লাঠিপেটায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। জালভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর মধ্যে বাগবিতণ্ডার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) বেলা সোয়া দুইটার দিকে পীরগাছা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে এই কেন্দ্র থেকে জালভোট দেওয়ার সময় দুজনকে আটক করে পুলিশ।

পীরগাছা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী জাহেদুল ইসলামের (মোরগ প্রতীক) বিরুদ্ধে হট্টগোলের অভিযোগ ওঠে। তা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ছিলাম। কখনো চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকেরা আবার কখনো আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আমাকে হেয় করে কথাবার্তা বলেন। তারা আমাকে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে বলায় উচ্চবাচ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই জালভোট দিচ্ছে, এমন খবর পেয়ে আমি মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে গিয়ে সবাইকে সতর্ক থেকে ভোট প্রদানের অনুরোধ করি। এ নিয়ে অন্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আমার ওপর চড়াও হন। পরে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় বেলা আড়াইটার পর থেকে কেন্দ্রটি ফাঁকা হয়ে যায়। অনেকে সংঘর্ষের আশঙ্কায় ভোট দিতে আর কেন্দ্রে আসেননি। তবে এ পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পরপরই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিজিবি ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা ওই কেন্দ্রে আসেন। এভাবেই বিকেল ৪টায় শেষ হয় ভোট গ্রহণ। পরে প্রার্থীদের দেওয়া এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা শুরু হয়। বর্তমানে ওই ভোটকেন্দ্রের বাইরে শত শত মানুষ অবস্থান করছেন।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এস এম সৈকত বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা চেষ্টা করেছি। জালভোট কেউ দিতে পারেনি। কেন্দ্রে প্রার্থীদের ভুল-বোঝাবুঝি থেকে হট্টগোল বেঁধেছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

এদিকে মোহাম্মদ আলী দাখিল মাদরাসা কেন্দ্র ছাড়াও ছাওলা ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময়ে মাসুদ রানা ও মামুন মিয়া নামের দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

রংপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোথাও তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আমরা পাইনি। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২২ জন করে দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া দুই উপজেলায় দুজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও দুজন সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। পাশাপাশি র‌্যাবের তিনটি টহল টিম এবং ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ করছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে পীরগাছা উপজেলার আটটি এবং পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টিসহ মোট ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই দুই উপজেলায় চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১ হাজার ১০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৮৭ জন, সাধারণ সদস্য ৭৫৮ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ২৫৬ জন প্রার্থী রয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত