প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাবনা ইউপি নির্বাচন: ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন

পাবনা প্রতিনিধি : বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, ব্যালট ছিনতাই, গোলাগুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে পাবনার সুজানগর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহন। এ সময় কয়েকটি ঘটনায় ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। পুলিশ ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে ৩ জনসহ মোট ১২ জনকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করে। কে আটক করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ১১ টার পরে সুজানগর উপজেলার হাটখালি ইউনিয়নের সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোলাগুলি ও মানিকহাট, তাতিবন্দ, ভায়না, আহম্মদপুর ইউনিয়নে দু’গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষ, দুলাই ইউনিয়নের বামুন্দি ও রায়পুরসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে জোরপূর্বক ভোট কেটে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে হাটখালি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখল নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁতিবন্দ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, এখানে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের কেন্দ্র দখলে বাঁধা দিলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

মানিকহাট ইউপির মমিনপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীসহ তার সমর্থকরা উপস্থিত থেকে জোরপূর্বক নৌকা প্রতীকে সিল মেরে নিয়েছে বলে অভিযোগ বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের। একই সাথে উলাট ফাযিল মাদরাসাসহ কয়েকটি কেন্দ্রে একই ঘটনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শফিউল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। মিথ্যা রটানো ছাড়া কিছু নয়।

একই ইউনিয়নের রায়পুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মি ও জনপ্রতিনিধিরা ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশ করতে না দিয়ে ভেতরে নৌকা প্রতীকে ব্যালট পেপারে সিল মেরে নিয়েছেন বলে অভিযোগ কেন্দ্রের বাইরে থাকা সাধারণ ভোটারদের। একদল সাংবাদিক দুপুরে কেন্দ্রে ঢুকতে গেলে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা বাঁধা প্রদান করে। একই কাজ হয়েছে মানিকহাট ইউপির মমিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন প্রকাশ্য ভোট কেটে নেয়ার সময়ে গণমাধ্যম কর্মিরা ছবি তুলতে গিয়ে তাদের রোষানলে পড়েন।

উপজেলার কাচুয়া, বামুন্দি, রায়পুর, মালফিয়া, মানিকহাট, বনকোলা, উলাট, খয়রান, সাতবাড়িয়াসহ বেশ কিছু ভোট কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ভোটারদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে আছি। কিন্তু লাইন শেষ না হলেও ভোট দেয়ার কোন বিরতি দেখছি না। তারা বলেন, লাইন টপকিয়ে, জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে ভোট দেয়া হয়েছে। লাইনে থাকা অনেক ভোটার দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করে ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট আগেই হয়ে গেছে।

পাবনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, সকাল থেকেই বেশ কিছু কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। যেখানেই সমস্যার খবর পেয়েছি। দ্রুত ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। বড় ধরণের নাশকতা বা অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবী পুলিশের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তার।

একই কেন্দ্রে পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ভোটের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো ছিল। ১০ইউপিতে ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ৪ প্লাটুন বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার খবর এসেছে। সেগুলো নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিরসন করা হয়েছে।

বিকেল সোয়া চারটায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত প্রত্যেক ইউনিয়নের ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনার প্রস্তুতি চলছিল।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত